বিশেষ প্রতিবেদক,বরগুনা
দ্বিতীয় স্ত্রীর নিকট যৌতুক দাবি করে নির্যাতন করার অভিযোগে বরগুনার সাবেক জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ফের গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার ওই ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো: ওসমান গনি এ আদেশ দিয়েছেন। ১৯ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে একই আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানার নির্দেশ দেয়। সেই আদেশে শিক্ষা কর্মকর্তা হাই কোর্ট থেকে ২৪ নভেম্বর ৪ সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়ে ট্রাইব্যুনালে আর হাজির হয়নি।এই শিক্ষা অফিসার বর্তমানে বান্দরবনে কর্মরত। তিনি চট্টগ্রাম জেলার পাহাড়তলী উপজেলার প্রান হরিদাস রোড, দক্ষিন কাট্টলির মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে। এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু ও বাদির আইনজীবী আবদুল ওয়াসি মতিন। জানা যায়, বাদি ৫ অক্টোবর ওই ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। তার স্বামী মো: জসিম উদ্দিন বরগুনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ছিলেন। তিনি বাদির গ্রামের একটি স্কুল পরিদর্শনে যায়। সেই সময় জসিম উদ্দিন তাকে দেখে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। বাদি বিবাহিত জেনেও তার স্বামীকে তালাক দেওয়াতে বাধ্য করেন। বাদি তার পূর্বের স্বামীকে তালাক দিয়ে জসিমকে বিয়ে করেন। কিছুদিন পর ২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ জসিম উদ্দিন বাদির নিকট ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করেন। বাদি টাকা দিতে অস্বীকার করেন। এতে জসিম উদ্দিন বাদিকে মারধর করেন। বাদি বলেন, আমি বরগুনা সদর উপজেলার নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ছিলাম। আমার স্বামী জসিম উদ্দিন তার প্রথম বিয়ে গোপন রেখে আমাকে ২০২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী বিয়ে করেন। আমাকে নিয়ে বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসে একটি কক্ষে বাসা করে আমাকে রাখতেন। কিছুদিন পর জসিম উদ্দিন আমার নিকট ৫০ লাখ টাকা যৌতুক চায়। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। আমি তার বিরুদ্ধে ওই ট্রাইব্যুনালে মামলা করি। বাদির আইনজীবী আবদুল ওয়াসি মতিন বলেন, বাদি বরগুনা সদর উপজেলার নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। মামলা করার পরে ওই ট্রাইব্যুনাল বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম শরিয়ত উল্লাহকে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন। অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বাদির মামলা ঘটনা সত্য নয়। বাদির পক্ষে ওই ট্রাইব্যুনালে আমি নারাজি দাখিল করি। ট্রাইব্যুনাল আসামী মো: জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। আসামীর বিরুদ্ধে ওই ট্রাইব্যুনাল গ্রেফতারী পরোয়ানার নির্দেশ দেয়। আসামী ট্রাইব্যুনালে হাজির না হয়ে মহামান্য হাই কোর্ট থেকে ২৪ নভেম্বর ৪ সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যিনালে হাজির হয়নি। এ কারনে ট্রাইব্যুনাল আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানার নির্দেশ দিয়েছেন। বাদির নিকট থেকে ফোন নম্বর নিয়ে আসামী মো: জসিম উদ্দিনকে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।