1. admin@bishwamedia.com : Main :
  2. news@bishwamedia.com : Bishwa Media : Bishwa Media
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মাদারীপুরে ৩৮১ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২২৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা, কঠোর নিরাপত্তায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন বরগুনা-২ আসন জামায়াতের অভিযোগ প্রশাসনের নীরবতায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ধ্বংসের শঙ্কা শ্রীরামপুর ও সুতিপাড়ার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ গ্রামবাসী: মেধা ও সমাজসেবায় প্রবর্তিত হলে বিশেষ পুরস্কার বেতাগী’র ৪২ টি কেন্দ্রের ১২ টি ঝুঁকিপূর্ণ মাদারীপুরে বাস–ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, যাত্রীসহ বাস খাদে বরগুনা-১ আসনজয়-পরাজয় বড় ফ্যাক্টর সংখ্যালঘু ও আ.লীগের নিরব ভোটার ধামরাইয়ের সুতিপাড়া ইউনিয়নে বিএনপির ব্যাপক গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ জামায়াত হলো স্বাধীনতা বিরোধী দল, এদের থেকে সাবধানে থাকবেন বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি প্রাইমারী সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ভাইবার মাত্র ৫ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল! বেতাগীতে নৌবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ আওয়ামী লীগ নেতা আটক

প্রাইমারী সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ভাইবার মাত্র ৫ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল!

  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

রেকর্ড গতির নিয়োগে জালিয়াতির ছায়া: স্বস্তি নাকি সন্দেহ?

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। মাত্র এক মাসে লিখিত এবং ৫ দিনে ভাইভা শেষ করে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নির্বাচিত করার এই ‘রেকর্ড গতি’ নিয়ে যেমন আলোচনা চলছে, তেমনি নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা।

ভাইভা বোর্ডে জালিয়াতির হাতেনাতে প্রমাণ প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু দিনাজপুরেই ভাইভা বোর্ডে সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে ধরা পড়েছেন ১১ জন প্রার্থী। গত ১ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পরীক্ষা দিতে এসে তারা আটক হন। আটককৃতদের মধ্যে ঘোড়াঘাট উপজেলার গোলাম রাফসানী স্বীকার করেছেন যে, ১০ লাখ টাকার চুক্তিতে তার হয়ে অন্যজন (প্রক্সি) লিখিত পরীক্ষা দিয়ে দিয়েছিলেন। একইভাবে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের দায়েও অনেকে আটক হয়েছেন। এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে শিক্ষা অফিসের কিছু কর্মচারী ও শিক্ষকদের জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে।

অস্বাভাবিক গতি ও তড়িঘড়ি ফল প্রকাশ গত ৯ জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র ১২ দিনের মাথায় ২১ জানুয়ারি ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এরপর ২৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ভাইভা শেষ হওয়ার মাত্র ৫ দিনের মাথায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। চাকরিপ্রার্থীদের একটি বড় অংশের দাবি, এত দ্রুত ফলাফল প্রকাশের ফলে জালিয়াতি ও প্রক্সি দিয়ে উত্তীর্ণদের চিহ্নিত করার সুযোগ কমে গেছে। তারা মনে করছেন, দ্রুত ফল প্রকাশ করে অনিয়মগুলো আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ডিজিটাল জালিয়াতি ও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ পরীক্ষা শুরুর মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র বাইরে চলে আসার অভিযোগ তুলেছিলেন পরীক্ষার্থীরা। এই জালিয়াতির প্রতিবাদে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার দাবিতে অধিদপ্তরের সামনে বিক্ষোভও করেছিলেন অনেকে। যদিও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করে বড় কোনো জালিয়াতির প্রমাণ পায়নি। তবে ভাইভা বোর্ডে প্রার্থীদের আটক হওয়ার ঘটনা গোয়েন্দা প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ পরীক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে সংশয় তৈরি করেছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, ডিজিটাল জালিয়াতি ও ‘কেন্দ্র কন্ট্র্যাক্ট’-এর মাধ্যমে অনেকে মেধাবীদের জায়গা দখল করে নিয়েছে। এছাড়া সার্টিফিকেটের নম্বর বাতিল ও ভাইভায় ‘পাস-ফেল’ পদ্ধতি প্রবর্তন নিয়েও তীব্র ক্ষোভ রয়েছে তাদের। তাদের দাবি, প্রতিটি জেলার উত্তীর্ণ প্রার্থীদের খাতা পুনরায় যাচাই করা হোক এবং জালিয়াতির সাথে যুক্ত সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনা হোক।

কর্তৃপক্ষের অবস্থান দ্রুত ফল প্রকাশের কারণ হিসেবে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান জানিয়েছেন, দেশে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক ও ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সরকারের সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং এখানে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই।


যদিও অধিদপ্তর এই নিয়োগকে ‘নির্ভুল ও স্বচ্ছ’ বলে দাবি করছে, কিন্তু দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা জালিয়াতির খবর ও ভাইভা বোর্ডে প্রক্সি পরীক্ষার্থীদের ধরা পড়ার ঘটনা এই নিয়োগের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সাধারণ মেধাবী প্রার্থীদের একটাই দাবি— শিক্ষকতার মতো পবিত্র পেশায় যেন কোনোভাবেই অসাধু পন্থায় কেউ প্রবেশ করতে না পারে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি:

  • মোট নির্বাচিত প্রার্থী: ৬১টি জেলায় মোট ১৪,৩৮৪ জন প্রার্থী সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
  • পরীক্ষার্থীর সংখ্যা: গত ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৮ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন।
  • লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ: লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ৬৯,২৬৫ জন (ফলাফল প্রকাশ হয়েছিল ২১ জানুয়ারি)।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়রেখা:

  • লিখিত পরীক্ষা: ৯ জানুয়ারি।
  • লিখিত পরীক্ষার ফল: ২১ জানুয়ারি।
  • মৌখিক পরীক্ষা: ২৮ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
  • চূড়ান্ত ফল প্রকাশ: ৮ ফেব্রুয়ারি (রবিবার রাত ১০টা ০৫ মিনিটে)।
এই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ...