মোঃ বজলুর রহমান
মানিকগঞ্জ জেলায় চলতি মৌসুমে ভুট্টা চাষে এসেছে নতুন সম্ভাবনার আলো। যেখানে আগে ইরি ধানের চাষ হতো, এখন সেই জমিতেই ব্যাপক হারে ভুট্টা আবাদ করছেন কৃষকরা। ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাজারদর সন্তোষজনক থাকায় কৃষকদের মধ্যে দেখা গেছে স্বস্তি ও আনন্দ।স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে ভুট্টার প্রতি মন বিক্রি হচ্ছে ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায়। ধানের তুলনায় ভুট্টা চাষ সহজ হওয়ায় অনেকেই এদিকে ঝুঁকছেন। ভুট্টার পাতা থেকে তৈরি হচ্ছে গবাদিপশুর খাদ্য, আর গাছ শুকিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে রান্নার জ্বালানি হিসেবে। এমনকি কাঁচা ভুট্টা গাছ শতাংশ হিসেবে ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি করে কৃষকরা অতিরিক্ত লাভবান হচ্ছেন, যা গোখাদ্যের জন্যও অত্যন্ত উপযোগী।এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর কৃষি অফিসার মোঃ মাসুম ভূঁইয়া বলেন, “ভুট্টা চাষে কৃষকরা ভালো লাভ পাচ্ছেন বলেই দিন দিন এর চাষ বাড়ছে।”সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার তারেক মাহমুদ জানান, “ধানের মতো ভুট্টা চাষে অতিরিক্ত সেচের প্রয়োজন হয় না। সারের ব্যবহারও তুলনামূলক কম লাগে। ফলে খরচ কম হলেও লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা ভুট্টা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।”স্থানীয় কৃষক মোঃ জামাল উদ্দিন বলেন, “আগে ধান চাষ করতাম, কিন্তু খরচ বেশি আর লাভ কম ছিল। এখন ভুট্টা চাষ করে খরচ কম হচ্ছে, লাভও ভালো পাচ্ছি।”অন্য কৃষক মোঃ হানিফ মোল্লা বলেন, “ভুট্টার বাজারদর ভালো থাকায় আমরা সবাই এখন ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছি। গবাদিপশুর খাদ্যও সহজে পাওয়া যাচ্ছে।”এছাড়া অন্যান্য কৃষকরাও জানান, কম খরচে বেশি লাভ এবং বহুমুখী ব্যবহারযোগ্যতার কারণে ভুট্টা চাষ এখন তাদের কাছে লাভজনক বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।সার্বিকভাবে বলা যায়, মানিকগঞ্জে ভুট্টা চাষ কৃষকদের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।