হবিগঞ্জ প্রতিনিধ:-
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা অবহেলা কারণে বহরা ইউনিয়নে এক আওয়ামী লীগের নেতার আউলিয়াবাদ মৌজার ১নং সরকারি খাস খতিয়ানে খালের উপর অবৈধ বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ উচ্ছেদ না করায় পানি নিষ্কাসনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ৬ টি গ্রামের হাজার হাজার জনগণের দীর্ঘ দিন ধরে ভোগান্তি মধ্যে রয়েছে । এবিষয় নিয়ে স্থানীয় কয়েকটি গ্রামবাসী মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায় , উপজেলার বহরা ইউনিয়নের পানিহাতা গ্রামের মৃত – রইছ উদ্দিনের ছেলে মোঃ আব্দুল মোতালিব গ্রামবাসীর পক্ষে ভুক্তভোগী হয়ে গত ২০২৫ সালে ২৮ জানুয়ারি মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে একই ইউনিয়নের প্রতিপক্ষ আউলিয়াবাদ গ্রামের মৃত – মোঃ নুরুল ইসলাম ওরফে কাছন মিয়া ছেলে বহরা ইউনিয়ন আ’লীগের সহ-সভাপতি মোঃ ফরাশ উদ্দিন ওরফে টিপু মিয়া (৫১) এর বিরুদ্ধে। পানিহাতা গ্রামের মোঃ আব্দুর রশিদ, কামাল উদ্দিন , ফারুক মিয়া , ইমন মিয়া , শাহজাহান মিয়া সহ আরো বলেন , ৫০ – ৬০ বছর ধরে আউলিয়াবাদ মৌজা ১১৩ নং জেএল তফসিল বর্ণিত ভূমি ১ নং সরকারি খাস খতিয়ানে ২২ নং দাগে ০.২৮ একর ছড়া (খাল)রেকর্ড ভুক্ত ভূমি বিদ্যমান রয়েছে। আওয়ামী লীগনেতা মোঃ ফরাশ উদ্দিন ওরফে টিপু মিয়া আওয়ামী লীগ সরকার আমলে সাবেক বিমান ও পর্যটক প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মোঃ মাহবুব আলী এমপি ছত্রছায়ায় দাপট দেখিয়ে এলাকার অনেক নিরীহ লোকজনকে থানায় ও ফৌজদারি আদালতে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে পর সম্পদ দখল করে আসছে । এমনকি সরকারি ভূমি অবৈধ ভাবে দখল করে ছড়া ( খাল) উপর আর সিসি পাকা পিলার দিয়ে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করেছে । উক্ত মৌজায় পানিহাতা গ্রামের সরকারি ছড়া (খাল) উপর বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করায় পানি নিষ্কাসন না হয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছে ৬ টি গ্রামের হাজার হাজার জনগণের দীর্ঘ দিন ভোগান্তি হচ্ছে । প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে উজানের বৃষ্টির পানি জমে গ্রামের রাস্তা , বাড়িঘর ও কৃষকদের জলমগ্ন হয়ে পড়ে আছে । এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি কারণে চরম ভোগান্তি মধ্যে পড়েছেন গ্রামবাসী। টিপু দাপট গ্রামবাসী অতিষ্ঠ । এবং তার দাপটে সরকারি খালের উপর বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ নিষেধ করলে ও নিষেধ মানে নাই । অভিযোগকারী আব্দুল মোতালিব বলেন , সরকারি খালের উপর বাউন্ডারি নির্মাণ করার বিষয়ে নিষেধ করলে বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে । এক পর্যায়ে এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান , মেম্বার , এলাকার সচেতন বিজ্ঞ মুরুব্বি সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অবগত করা হলে ও তারা নির্দেশ দেয় সরকারি জায়গায় খালের উপর বাউন্ডারি ওয়াল না দেওয়ার জন্য কিন্তু তাদের কথা অমান্য করে যাচ্ছে । অবশেষে গ্রামবাসী ও মুরুব্বিদের পক্ষে আমাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে অভিযোগ দেওয়ার জন্য অনুমতি দেওয়া হয় । আমি জনগণের সুবিধার্থে অভিযোগ দাখিল করি। অপর দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গত ২০২৫ সালে ২৯ জানুয়ারি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা কাছে পাঠানো হয় এবং এ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আদেশ দেন । সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা এ অভিযোগ পেয়ে মনতলা ইউনিয়ন সহকারী কর্মকর্তা কাছে পাঠানো হয় বিষয় টি সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন পাঠানো নির্দেশ দেওয়া হয় । মনতলা ইউনিয়ন সহকারী কর্মকর্তা (ভাঃ) মোঃ মজিবুর রহমান সরজমিনে আউলিয়াবাদ মৌজা ১ নং সরকারি খাস খতিয়ানে ২২ নং দাগের ছড়া (খাল) উপর বাউন্ডারি নির্মাণ করা হয়েছে দেখে সত্যতা প্রমাণ পেয়ে বিবাদী পক্ষের মোঃ ফরাশ উদ্দিন ওরফে টিপু নির্দেশ দেওয়া হয় সরকারি খাস খতিয়ানের ছড়া (খাল) উপর থেকে বাউন্ডারি ওয়াল সরানোর জন্য নির্দেশ দিলেও সরানো হয়নি। তহসিলদারের নির্দেশ না মানায় গত ২০২৫ সালে ১৭ জুলাই তারিখে মনতলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মজিবুর রহমান তদন্ত করে সত্যতা যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন পত্র উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকতা কাছে পাঠানো হয়েছে । এদিকে সরকারি সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তার অবহেলা কারণে এখনো সরকারি খাস খতিয়ানের খালের উপর হতে উচ্ছেদ করেনি বাউন্ডারি নির্মাণ করা ওয়াল। মোঃ ফরাশ উদ্দিন ওরফে টিপু মিয়া বলেন , এতদিন যে খাল দিয়ে পানি যেত কিন্তু এটি সরকারি রেকর্ডীয় কোনো ছড়া ( খাল) নয়। আমার মৌরসীপাট্টা জায়গায় আর সিসি পাকা পিলার দিয়ে ছড়া উপর বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করেছি ।