!সিনিয়র রিপোর্টার আনিছুরজ্জামান খোকন কোনো ধরণের প্রাথমিক তদন্ত বা সত্যতা যাচাই ছাড়াই একজন পেশাদার গণমাধ্যমকর্মী এবং ঢাকা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘আইন সুরক্ষা ফাউন্ডেশন আসুফ’-এর কেন্দ্রীয় পরিচালক (তথ্য অনুসন্ধান) এর,বিরুদ্ধে মারপিট ও হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর ধারায় সাজানো মামলা রেকর্ড করার অভিযোগ উঠেছে উত্তরা উত্তরখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-হাবিবুর রহমান এর বিরুদ্ধে। গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রুজু হওয়া মামলা নম্বর-০৫ (ধারা-১৪৩, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭)-এর মাধ্যমে ওই সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী চরমভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় সচেতন মহল, সুশীল সমাজ এবং ক্ষুব্ধ গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, সমাজে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধের তথ্য অনুসন্ধানের মতো সংবেদনশীল দায়িত্বে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সমাজের দর্পণ হিসেবে পরিচিত একজন সাংবাদিকের কণ্ঠ স্তব্ধ করতেই এই চক্রান্ত। একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনে, কোনো আইনি যাচাই-বাছাই ছাড়াই উত্তরখান থানার ওসি হাবিবুর রহমান এই মিথ্যা মামলাটি গ্রহণ করেছেন,যা স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মানবাধিকার কর্মকাণ্ডের ওপর সরাসরি আঘাত।আইন ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনার চরম অবমাননাআইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দণ্ডবিধির ১৪৩ (বেআইনি জনতা), ৩২৩ (স্বেচ্ছায় আঘাত), ৩২৫ (গুরুতর আঘাত) এবং ৩০৭ (হত্যাচেষ্টা) ধারাগুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই ধরণের গুরুতর অভিযোগ কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে এলে, বিশেষ করে তিনি যদি একজন স্বীকৃত সাংবাদিক বা মানবাধিকার কর্মী হন, তবে মামলা রুজু করার আগে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রাথমিক তদন্ত করা বাধ্যতামূলক।মহামান্য উচ্চ আদালতের একাধিক সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, কাউকে কেবল হয়রানি বা সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে ঢালাওভাবে যেন মামলা রেকর্ড করা না হয়। কিন্তু উত্তরখান থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান সেই সব আইনি বাধ্যবাধকতা ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তড়িঘড়ি করে মামলাটি গ্রহণ করেছেন। এটি স্পষ্টতই ক্ষমতার অপব্যবহার, পেশাদারিত্বের অভাব এবং দায়িত্বহীনতার এক নিকৃষ্টতম বহিঃপ্রকাশ।ষড়যন্ত্রের শিকার ভুক্তভোগী, সংকটে পুলিশের ভাবমূর্তিভুক্তভোগী ওই সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের তথ্য অনুসন্ধান ও বস্তুনিষ্ঠ লেখনীতে যেসব অপরাধী মহলের মুখোশ উন্মোচিত হচ্ছিল, তারাই নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে এই কাল্পনিক কাহিনী সাজিয়েছে। উত্তরখান থানা পুলিশ ঘটনার নূন্যতম তদন্ত না করে গভীর রাতে বা যেকোনো সময় আমাদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির ভয় দেখাচ্ছে। আমরা চরম সামাজিক, মানসিক ও পেশাগত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”বাংলাদেশ পুলিশ যখন নিজেদের একটি ‘জনবান্ধব’, ‘স্বচ্ছ’ ও ‘সেবামূলক’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে, তখন উত্তরখান থানার ওসির এমন একপেশে ও পক্ষপাতমূলক আচরণ পুলিশের সামগ্রিক অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—আইনের রক্ষক হয়ে ওসি যদি নিজেই একটি চক্রের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেন এবং তদন্ত ছাড়াই মামলা নিয়ে হয়রানি করেন, তবে সমাজে ন্যায়বিচার কোথায় থাকবে?অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার ও ওসির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবিএই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিক সংগঠনগুলো। নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অবিলম্বে এই সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাটি প্রত্যাহার করা না হলে এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারী ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে, সাংবাদিক সমাজ দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।