1. admin@bishwamedia.com : Main :
  2. news@bishwamedia.com : Bishwa Media : Bishwa Media
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সুদীর্ঘ ৪০ বছরের শিক্ষকতা, ইমামতি ও পবিত্র কুরআন শেখানোর নিঃস্বার্থ ব্যক্তিত্ব: গড়িয়াবুনিয়া বাজার জামে মসজিদের খতিব প্রাণপুরুষ আলহাজ্ব মাওলানা মো: মাকসুদুর রহমান। বেতাগীতে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বেতাগীতে গ্রাম পুলিশের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ করলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজীপুর সদর থানার পুলিশের অভিযানে বিদেশি ২টি পিস্তলসহ দুই বন্ধু গ্রেফতার মেধাবী প্রজন্ম ও পড়ার টেবিলে ফেরা: আমাদের আগামীর অঙ্গীকার নবীনগরে পৈতৃক সম্পত্তি দখল ও নির্যাতনের অভিযোগ, আতঙ্কে পরিবার জামালপুর জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিতপেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও জনসেবায় আরও গতিশীল হওয়ার আহ্বান পুলিশ সুপারের বরিশালের তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ, রাজশাহীতে শাশুড়ি-জামাতাসহ পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দাবি অপরাধমুক্ত কিশোরগঞ্জ গড়তে পুলিশ-জনতার ঐক্যের আহ্বানমডেল থানায় কমিউনিটি পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিতকিশোরগঞ্জ কোম্পানীগঞ্জে শিক্ষার্থী বলাৎকারের চেষ্টায় বৃদ্ধ আটক

মিরপুর-১০ নম্বর ফুটপাতের চাঁদাবাজির অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি ব্যবসায়ীদের

  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

সিনিয়র রিপোর্টার: আনিছুরজ্জামান খোকনরাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক ও জনবহুল এলাকা মিরপুর-১০ নম্বর ফুটপাতকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়া চাঁদাবাজির অভিযোগকে “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব” বলে দাবি করেছেন স্থানীয় হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সরেজমিনে এলাকা ঘুরে ব্যবসায়ী, পথচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে তারা তুলনামূলকভাবে স্বস্তি ও নিরাপদ পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাদের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জোরপূর্বক অর্থ আদায় করছে না এবং দীর্ঘদিন পর তারা একটি স্থিতিশীল পরিবেশে ব্যবসা করার সুযোগ পাচ্ছেন।একজন ফল বিক্রেতা বলেন,“অনেকদিন পর আমরা শান্তিতে ব্যবসা করছি। আগে নানা ধরনের ঝামেলা ছিল, এখন সেসব নেই। কেউ ভয়ভীতি দেখায় না।”আরেকজন হকারের ভাষ্য,“বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারছি। প্রতিদিন যা বিক্রি করি সেটাই আমাদের আয়। কাউকে আলাদা করে কোনো চাঁদা দিতে হয় না।”ব্যবসায়ীরা জানান, সন্ধ্যার পর দোকানপ্রতি ৩০ টাকা করে বিদ্যুৎ বিল বাবদ অর্থ হকার সমিতির কাছে জমা দেওয়া হয়। এই অর্থ ফুটপাতের দোকানগুলোর লাইটের বিদ্যুৎ খরচ ও কিছু যৌথ ব্যবস্থাপনার কাজে ব্যবহার করা হয় বলে তারা দাবি করেন।একজন পোশাক বিক্রেতা বলেন,“আমরা শুধু ৩০ টাকা করে লাইটের বিল দিই। এটা সমিতির নিয়ম অনুযায়ী নেওয়া হয়। এর বাইরে কোনো ধরনের চাঁদা নেই।”হকার সমিতির এক সদস্য জানান,“সমিতি সীমিত পরিসরে কিছু যৌথ খরচের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে। আলো, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় দেখভাল করতেই এই অর্থ ব্যবহার করা হয়। এখানে অবৈধ অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই।”ফুটপাতের এক চা বিক্রেতা বলেন,“আমরা সবাই মিলেমিশে ব্যবসা করি। কোনো ধরনের চাপ বা জোরজবরদস্তির ঘটনা আমরা দেখিনি।”আরেকজন হকার বলেন,“যদি কোনো সমস্যা থাকত, আমরা নিজেরাই আগে জানাতাম। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভালো। তাই এসব অভিযোগ শুনে আমরা অবাক হয়েছি।”কয়েকজন দোকানদার জানান, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিরপুর-১০ ফুটপাতে চাঁদা তোলার অভিযোগসংবলিত কিছু পোস্ট তাদের নজরে এসেছে। তবে বাস্তবে তাদের কাছে কেউ কখনও চাঁদা দাবি করেনি বলে জানান তারা।একজন দোকানদার বলেন,“আমরা কিছুদিন ধরে শুনছি চাঁদা তোলার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে আমাদের কাছে কেউ কখনও চাঁদা চাইতে আসেনি। এসব সম্পূর্ণ গুজব।”আরেকজন ব্যবসায়ী বলেন,“এ ধরনের গুজব ছড়ালে আমাদের ব্যবসার ক্ষতি হয়। মানুষ ভুল ধারণা পোষণ করলে ক্রেতারাও ভয়ে আসতে চায় না।”একজন ভ্যানচালক বলেন,“আমরা সারাদিন কষ্ট করে রোজগার করি। আমাদের নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো হলে সেটা খুব কষ্টের বিষয়।”ফুটপাতের এক পুরনো ব্যবসায়ী বলেন,“আগে বিশৃঙ্খলা বেশি ছিল। এখন সবাই নিজ নিজ জায়গায় বসে নিয়ম মেনে ব্যবসা করছে। পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক ভালো।”স্থানীয় পথচারীদের সঙ্গেও কথা বলে জানা যায়, আগের তুলনায় ফুটপাত দিয়ে চলাচল এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে।একজন পথচারী বলেন,“আগে হাঁটতে অনেক কষ্ট হতো। এখন পরিস্থিতি অনেক ভালো মনে হচ্ছে।”আরেকজনের মন্তব্য,“ফুটপাত এখন তুলনামূলকভাবে গোছানো। সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত আলো থাকায় চলাচলও নিরাপদ মনে হয়।”স্থানীয়দের মতে, যাচাই-বাছাই ছাড়া গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলে যেমন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভুল ধারণা তৈরি হয়।একজন ব্যবসায়ী বলেন,“আমাদের অনুরোধ, যাচাই ছাড়া যেন কেউ কোনো তথ্য প্রচার না করেন। এতে সাধারণ ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়।”এদিকে হকাররা প্রশাসনের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।তাদের ভাষ্য,“যদি কেউ পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ায়, তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এতে আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে থাকতে পারবে।”স্থানীয়দের আশা, ভবিষ্যতেও মিরপুর-১০ নম্বর ফুটপাতে বর্তমান স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকবে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।

এই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ...