সিনিয়র রিপোর্টার আনিছুরজ্জামান খোকন
পবিত্র মসজিদের সাধারণ সম্পাদক আবু সায়েম সামাজিক সংগঠনের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে জনস্বার্থের রাস্তা ও সাধারণ মানুষের জমি গিলে খাচ্ছে একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্র। চানপাড়া উত্তরখান এলাকায় আবু সায়েম আন্ নূর ভূঁইয়া বাড়ী জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক এবং গার্ডেন সোসাইটির সভাপতি বাদল মোল্লার যৌথ সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে হাজারো সাধারণ মানুষ। সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে রাস্তা দখল এবং তা চড়া দামে বিক্রির এই প্রকাশ্য মহোৎসবে প্রশাসনের ‘ধৃতরাষ্ট্র’ ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা এলাকা।যেভাবে চলে ‘রাস্তা বিক্রির খেলাঅনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চক্রটির মূল টার্গেট এলাকার কমদামী বা সাধারণ মানুষের চলাচলের সংযোগ সড়ক ও জমি। প্রথমে আবু সায়েম ও বাদল মোল্লা পারস্পরিক যোগসাজশে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো চিহ্নিত করেন। এরপর সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের তোয়াক্কা না করে, তাদের ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে রাতের অন্ধকারে কিংবা প্রকাশ্য দিবালোকে লাঠি ও অস্ত্রের জোরে তা কাঁটাতার বা দেয়াল দিয়ে অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়।পরবর্তীতে এই সাধারণ ও জনবান্ধব রাস্তাগুলোকেই সুকৌশলে প্লট বা বাণিজ্যিক জমি হিসেবে দেখিয়ে অন্য চক্রের কাছে কোটি টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে শত শত পরিবারের যাতায়াতের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।ভুক্তভোগীদের কান্না, সন্ত্রাসীদের হুংকারসরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই সিন্ডিকেটের ভয়ে স্থানীয় মানুষ মুখ খুলতে পর্যন্ত আতঙ্ক বোধ করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বয়োবৃদ্ধ স্থানীয় বাসিন্দা বুকফাটা আর্তনাদ নিয়ে বলেন:”বাবা, যে রাস্তা দিয়ে আমরা বংশানুক্রমিক যাতায়াত করছি, আজ সেটা রাতারাতি উধাও হয়ে গেল! প্রতিবাদ করতে গেলে বুক বরাবর অস্ত্র তাক করা হয়। মসজিদের সেক্রেটারি আর সোসাইটির সভাপতি যদি ডাকাত হয়, তবে আমরা সাধারণ মানুষ কার কাছে যাব?”আরেক ভুক্তভোগী জানান, সন্ত্রাসী বাহিনীর চাদর গায়ে জড়িয়ে এই দুই নেতা রীতিমতো এলাকা শাসন করছেন। কেউ বাধা দিলে মিথ্যা মামলা, হামলা ও এলাকাছাড়া করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত।প্রশাসন কেন নিশ্চুপ? জনমনে তীব্র প্রশ্নএই ভয়াবহ নৈরাজ্যের চেয়েও বড় ধাক্কা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা। চোখের সামনে একটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বেদখল হয়ে যাচ্ছে, সন্ত্রাসীরা মহড়া দিচ্ছে, অথচ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় ভূমি অফিস পুরোপুরি নির্বিকার। এই ‘রহস্যজনক নীরবতা’র পেছনে কোনো বড় ধরনের লেনদেন বা আড়ালে থাকা কোনো শক্তির হাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ড্রয়িংরুম—সবখানে তীব্র কানাঘুষা চলছে।সাধারণ মানুষ স্পষ্ট করেই বলছেন, প্রশাসনের এই নীরবতা আসলে অপরাধীদের পরোক্ষ প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল।অবিলম্বে হস্তক্ষেপের দাবিএকটি সভ্য সমাজে জন চলাচলের রাস্তা দখল করে বাণিজ্য করার এই ধৃষ্টতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এলাকাবাসীর পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। অনতিবিলম্বে এই আবু সায়েম ও বাদল মোল্লা সিন্ডিকেটের দখলদারিত্ব উচ্ছেদ করে, সন্ত্রাসী বাহিনীকে আইনের আওতায় এনে সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের উচ্চমহল এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছে সর্বস্তরের ভুক্তভোগী জনগণ।