মোঃ বজলুর রহমান
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদামে অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি খাদ্য গুদামের ভেতরে রামছাগল বস্তা চিরে চাল খাচ্ছে, অথচ দায়িত্বপ্রাপ্তরা তা রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, গরিব ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত ৩০ কেজি চালের বস্তায় অনেক সময় ২৭ থেকে ২৮ কেজি চাল পাওয়া যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন— “বাকি চাল গেল কোথায়?” তাদের দাবি, খাদ্য গুদামের অব্যবস্থাপনা ও অসাধু চক্রের কারণে সরকারি খাদ্য নষ্ট ও আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।ঘটনাস্থলে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে চাইলে বাধার মুখে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, খাদ্য পরিদর্শক শ্রী বিপুল কুমারকে না পেয়ে অফিস স্টাফ (মাস্টাররোল) নবীজলকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন। তিনি দাবি করেন, এটি “১৪৪ ধারা দ্বারা সংরক্ষিত এলাকা”, তাই সেখানে ক্যামেরা ব্যবহার করা যাবে না। এ সময় তার কথাবার্তায় সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন ঘিওর ইউনিয়ন পরিষদ-এর সচিব মোঃ মিজবাহ উদ্দিন আহমেদ এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য সোনাজ উদ্দিন মেম্বার।এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার বলেন, “এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”খাদ্য পরিদর্শক বিপুল কুমার বলেন, “ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। পাশের ব্রিজ নির্মাণকাজের কারণে বিকল্প পথ দিয়ে ছাগলগুলো ভেতরে ঢুকে পড়ে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে।”এ বিষয়ে নাশিতা-তুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”স্থানীয় সরকার জনাব মোঃ অহিদুল ইসলাম চেয়ারম্যান বলেন, সরকারি খাদ্য গুদামে এমন অব্যবস্থাপনা শুধু রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ই নয়, বরং দরিদ্র মানুষের অধিকার হরণের শামিল। অথচ তাদের কারণে দোষ হয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের । দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি ।