হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ
অনিয়ম-দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে আজমিরীগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলমের বিরুদ্ধে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে নিজের খুশিমতো অফিসে আসা-যাওয়া এবং তার অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতায় অধিদপ্তরের কার্যক্রম মুখথুবড়ে পড়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পে তার অনিয়মের বিষয় নিয়ে কর্মকর্তাদের মাঝে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ নামমাত্র করিয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে মিলে বিলের টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে থাকেন।

তিনি আজমিরীগঞ্জ সদর, জলসুখা, বদলপুর, কাকাইলছ ও শিবপাশা এই ৫টি ইউনিয়নে টুইন পিট ল্যাট্রিন প্রকল্প, আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল, গভীর নলক‚পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও জানা যায়। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগ আমলেও তিনি ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে বহু অপকর্ম করেছেন। দীর্ঘ আট বছরের বেশি সময় ধরে একই অফিসে একই টেবিলে অবস্থান করায় কাউকে তিনি পাত্তা দিতেন না।

একই স্থানে থাকার সুবাদে সরকারি কাজের পাশাপাশি পরোক্ষভাবে ঠিকাদারিতেও তিনি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। একই স্টেশনে থাকায় তিনি উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন।২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পলাতক থাকায় নলকুপ বরাদ্দের নামে করেছেন ব্যাপক অনিয়ম ও হরিলুট। উপ-সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম সরকারি কোনো নীতিমালা না মেনে টাকার বিনিময়ে বেশির ভাগ সচ্ছল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে নলকুপ বরাদ্দ দিয়েছেন। জনস্বাস্থ্যের এ উপ-সহকারী প্রকৌশলী ঠিকাদারদের সাথে যোগসাজশ করে যেমন ইচ্ছা তেমনভাবে স্থাপন করেছেন গভীর নলক‚প। শুধু তাই নয়, মিনি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের বিভিন্ন প্রকল্পেও করেছেন অনিয়ম। ঘুষ টাকা নিয়েই তিনি প্রতিটি ইউনিয়নেই সরকারি টিউবওয়েল বরাদ্দ দিয়েছেন, সেগুলো বসানো হয়েছে কারো পাকের ঘরে, কারো বা গোয়াল ঘরে। এ কারণে বেশিরভাগ টিউবওয়েল বসানোর স্ট্রাকচার ভেঙে পড়েছে। যা পুনরায় মেরামতের কোনো ব্যবস্থা নেই।এখানে শেষ নয়, তিনি সরকারি অফিসকে নিজের বাসাবাড়ি বানিয়ে ফেলেছেন। বাসা বরাদ্দের নিয়ম-নীতির কোনো তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়ালখুশি মতো ব্যবহার করছেন সরকারি অফিস। পানি, বিদ্যুৎ বিলসহ কোনো কিছুই দিতে হচ্ছে না তাকে।এ ব্যাপারে সাপ্তাহিক বিশ্ব মিডিয়ার প্রতিবেদক আজমিরিগঞ্জ উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলমের মুঠোফোনে জানতে চাইলে কোনো প্রশ্নের উত্তরই দিতে রাজি হননি।
