সিনিয়র রিপোর্টার আনিছুরজ্জামান খোকন একটি শিশু যখন ধর্ষণের শিকার হয়ে প্রাণ হারায়, তখন শুধু একটি পরিবার নয়,সমগ্র জাতি আহত হয়। রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা।গত তিন মাসে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কিছু পদক্ষেপের কথা সামনে এসেছে। যেমন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন আরও কঠোর করতে ২০২৬ সালে সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক আলোচিত কয়েকটি শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার সম্পন্নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো শুধু আইন কঠোর করলেই অপরাধ কমে না। যখন বিচার দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে, যখন প্রভাবশালীরা পার পেয়ে যায়, যখন পরিবারগুলো নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে তখন অপরাধীরা আরও সাহস পায়। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, দেশে শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা এখনও উদ্বেগজনক হারে ঘটছে। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব, রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব হলোশিশু ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাতদন্তে গাফিলতি হলে দায়ীদের শাস্তি দেওয়াপ্রতিটি থানায় শিশু সুরক্ষা সেল গঠন করাস্কুল, মসজিদ, মাদরাসা ও সমাজভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম চালানোঅনলাইন ও বাস্তব জীবনে যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি করাভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি ও মানসিক সহায়তা দেওয়ারাজনৈতিক পরিচয় বা ক্ষমতার প্রভাব যেন কোনো অপরাধীকে রক্ষা করতে না পারে তা নিশ্চিত করাএকটি রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন একটি শিশুও নিরাপদ থাকে। আজ বাংলাদেশের মানুষ শুধু আশ্বাস চায় না, তারা কার্যকর বিচার দেখতে চায়। তারা চায়,আর কোনো রামিসা, আর কোনো নিষ্পাপ শিশু যেন ধর্ষণ ও হত্যার শিকার না হয়।শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো দয়া নয়, এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙতে না পারলে সমাজে ভয় নয়, বরং অপরাধীদের সাহসই বাড়তে থাকবে। তাই এখন প্রয়োজন দ্রুত বিচার, কঠোর বাস্তবায়ন এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা।