সিনিয়র রিপোর্টার আনিছুরজ্জামান খোকন
বন্দিদের আইনি ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার। অথচ বাস্তব চিত্র যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে সেবা নিতে আসা বন্দিদের স্বজন, সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা প্রতিনিয়ত হয়রানি, অবহেলা ও সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই অব্যবস্থাপনা এখন জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।জাতীয় সাপ্তাহিক বিশ্ব মিডিয়া পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক আনিছুরজ্জামান খোকনের মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে কারাগারকেন্দ্রিক সেবাব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র, যেখানে মানবিকতা ও জবাবদিহিতার সংকট দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে।অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কারাগার সংশ্লিষ্ট প্রায় প্রতিটি কার্যক্রমে রয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার অভাব। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষজন বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, তথ্য সংগ্রহ কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। অথচ দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর আচরণে দেখা মিলছে না ন্যূনতম মানবিকতারও। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় তথ্য বা সহযোগিতা ছাড়াই চরম হতাশা নিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, কারাগারকেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়ম মেনে সেবা নিতে গেলে সাধারণ মানুষকে জটিলতা ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু বিশেষ মাধ্যম কিংবা প্রভাবশালী মহলের সহায়তা নিলে দ্রুত সমাধান মিলছে। ফলে গরিব, অসহায় ও প্রান্তিক মানুষরাই সবচেয়ে বেশি বৈষম্য ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ (ইন্টারভিউ), কাগজপত্র যাচাই-বাছাই কিংবা সাধারণ প্রশাসনিক সহায়তা নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত তাদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। জনবল সংকট, সার্ভার জটিলতা কিংবা টেকনিক্যাল সমস্যার অজুহাতে দিনের পর দিন ঘুরানো হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তাদের অভিযোগ, যথাযথ তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহিতার অভাবে কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী জনগণের দুর্ভোগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।মানবাধিকার কর্মী ও সচেতন মহলের মতে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে যদি সাধারণ নাগরিকেরা ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক সেবা না পান, তবে তা রাষ্ট্রের সুশাসন, আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করায়। কারাগারকে শুধুমাত্র শাস্তির স্থান নয়, বরং একটি সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলার যে রাষ্ট্রীয় লক্ষ্য, তা এ ধরনের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে।সচেতন মহল অবিলম্বে কারাগারকেন্দ্রিক এই হয়রানি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, সেবাব্যবস্থায় ডিজিটাল স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে কারা অধিদপ্তর ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।