দুলাল ফেরদৌস , বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি:যিনি এক সময় শ্রেণি কক্ষে শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন, তিনিই আবার আল্লাহর ঘরের মিম্বারে দাঁড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে দেখিয়েছেন পরম শান্তির পথ। তিনি আর কেউ নন, এলাকার সর্বজন শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব মাওলানা মো: মাকসুদুর রহমান সাহেব। জীবনের দীর্ঘ ৪০ বছর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ‘গড়িয়া বুনিয়া বাজার জামে মসজিদে’ বিনা পারিশ্রমিকে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে ইমামতি করে আসছেন।তিনি শিশুদেরকে অবৈতনিকভাবে পবিত্র আল কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন।দীর্ঘদিন যাবত এই মসজিদে আগত মুসল্লিদের আধ্যাত্মিক দীক্ষা ও দ্বীনি শিক্ষা দেয়ার পাশাপাশি তিনি মানুষকে সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে বিনা পারিশ্রমিকে নানাভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। মসজিদের দেখভাল থেকে শুরু করে ধর্মপ্রাণ মানুষের যেকোনো প্রয়োজনে তিনি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। কোনো প্রকার দুনিয়াবি লোভ-লালসা বা প্রচারণার আশা না করে, কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তিনি এই নিঃস্বার্থ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।স্থানীয় মুসল্লিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাওলানা মো: মাকসুদুর রহমান সাহেবের সুমধুর কণ্ঠের ক্বেরাত এবং চমৎকার খুতবা মুসল্লিদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। একজন সাবেক শিক্ষক এবং মসজিদের ইমাম হিসেবে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা আকাশচুম্বী।মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, “মাওলানা মো: মাকসুদুর রহমান সাহেব শুধু আমাদের ইমামই নন, তিনি আমাদের সমাজের একজন অভিভাবক। শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পরও যেভাবে তিনি দিন-রাত আল্লাহর ঘর মসজিদের এবং মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন, তা সত্যিই বিরল। ব্যক্তি জীবনেও তিনি সফল।তার সকল সন্তান, জামাতা ও নাতীনাতনী সবাই উচ্চশিক্ষিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত। তার এই নিঃস্বার্থ ত্যাগ আমাদের প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে।”আজকের স্বার্থপর সমাজে আলহাজ মাওলানা মো: মাকসুদুর রহমান সাহেবের এই দ্বীনি খিদমত ও সমাজসেবা এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এলাকার অনেক হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও জ এই মহান দ্বীনি ব্যক্তিত্বের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও ইহকাল-পরকালের সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন।