মোঃ সোহেল / সাংবাদিক শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। কিন্তু এই মেরুদণ্ড আজ এক কঠিন পরীক্ষার মুখে। গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থার অচলায়তন ভেঙে গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রশাসন যখন কঠোর ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, তখন কিছু মহল বিভ্রান্তি ছড়াতে তৎপর। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—আমরা কি সার্টিফিকেটধারী অলস প্রজন্ম চাই, নাকি প্রকৃত মেধাবী উত্তরসূরি?আজকের প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম—বিশেষ করে টিকটক, রিলস ও ফেসবুকের মায়াজাল কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। পড়াশোনার চেয়ে বিনোদন আজ তাদের কাছে অধিক আকর্ষণীয়। এই সংকটময় মুহূর্তে শিক্ষা প্রশাসনের গৃহীত কঠোর পদক্ষেপগুলো কেবল নিয়ম রক্ষা নয়, বরং আগামীর বাংলাদেশকে মেধাশূন্য হওয়ার হাত থেকে রক্ষার লড়াই।শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন সাহেবের গৃহীত সংস্কারসমূহ মূলত শিক্ষার্থীদের একটি সুশৃঙ্খল প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে ফিরিয়ে আনার প্রয়াস। যারা অটোপাসের সহজ পথ খুঁজছিলেন, তারা আজ গুণগত শিক্ষার চ্যালেঞ্জ দেখে শঙ্কিত। কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন, জাতির দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির জন্য এই কঠোরতা অপরিহার্য।অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান:একজন অভিভাবক ও রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে আমি আমার সন্তানদের—অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরার বিনীত অনুরোধ জানাই। মনে রেখো, আজকের এই কঠোর পরিশ্রমই তোমার আগামীর সাফল্যের ভিত্তি। সোশ্যাল মিডিয়ার সাময়িক আনন্দ তোমাকে সাময়িক তৃপ্তি দেবে, কিন্তু অর্জিত জ্ঞান তোমাকে আজীবন সম্মানের আসনে বসাবে।অভিভাবক সমাজ, আপনাদের উৎকণ্ঠা আমাদের দায়বদ্ধতা। আপনাদের সন্তানদের মেধার উৎকর্ষ সাধনে রাষ্ট্র আপনাদের পাশে আছে। আসুন, আমরা সম্মিলিতভাবে সন্তানদের রিলস-টিকটকের আসক্তি থেকে মুক্ত করি এবং তাদেরকে বইয়ের পাতায় মনোযোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করি।পরিশেষে, মেধাবী বাংলাদেশ গড়ার পথে এটিই আমাদের প্রথম ধাপ। রাষ্ট্র ও ভবিষ্যতের স্বার্থে, আসুন—আমরা সবাই পড়ার টেবিলে ফিরে যাই। আজকের এই শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনই নিশ্চিত করবে আগামীর আলোকিত বাংলাদেশ।