মোঃ. সফর মিয়া , নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধি
;ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেপুর ইউনিয়নের আহম্মদপুর গ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি দখল এবং মা ও ভাই-বোনদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম বদিউল আলম সরকার (৬০)। তিনি ওই গ্রামের মৃত নাসির উদ্দিন সরকারের প্রথম সংসারের বড় ছেলে এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার নবীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত নাসির উদ্দিন সরকারের দুই সংসারে ছয় সন্তান রয়েছে। প্রথম সংসারে বড় ছেলে বদিউল আলম এবং দুই মেয়ে জোসনা বেগম ও পারভীন আক্তার। দ্বিতীয় সংসারে রয়েছেন স্ত্রী বয়জো খানম (৮০), দুই ছেলে সুমন সরকার ও নোমান সরকার এবং মেয়ে ইয়াসমিন বেগম (৫০)।ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তি আইন অনুযায়ী ভাই-বোনদের নামে পৃথকভাবে নামজারি ও জমা-খারিজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু প্রথম সংসারের বড় ছেলে বদিউল আলম ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পৈতৃক ১০ শতাংশ বসতবাড়ির মধ্যে ৫ শতাংশের বেশি জায়গা জোরপূর্বক দখল করে নিজস্ব ভবন নির্মাণ করেছেন।দ্বিতীয় সংসারের সন্তান ইয়াসমিন বেগম ও সুমন সরকার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা জীবিকার তাগিদে কেউ প্রবাসে থাকি, আবার কেউ সরকারি চাকরি করি। বাড়িতে পুরুষ মানুষ না থাকার সুযোগে বড় ভাই বদিউল আলম আমাদের ওপর নানাভাবে নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার হুমকি দিয়ে আসছেন। এমনকি তাঁর বিবাহিত মেয়ে আমাদের পৈতৃক বাড়িতে অবস্থান করে আমাদের ওপর চড়াও হন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।’ বর্তমানে তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিরোধটি নিষ্পত্তির জন্য এলাকায় একাধিকবার সালিশি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বদিউল আলম প্রথমে সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা বললেও পরবর্তীতে তা অমান্য করেন।অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত বদিউল আলমের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ‘এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং বিরোধপূর্ণ জায়গায় যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, সে জন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ ও মামলার বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।