! লিটন কুমার ঢালী, বেতাগী (বরগুনা) :বরগুনার বেতাগী উপজেলায় মাত্র ৫ মিনিটের তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়ে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। আকস্মিক এই ঝড়ের তাণ্ডবে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কিছু বসতবাড়ি ও দোকানপাটেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ করেই আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর শুরু হয় দমকা হাওয়া। মুহূর্তের মধ্যেই কালবৈশাখী ঝড় আকার ধারণ করে। প্রায় ৫ মিনিট স্থায়ী হওয়া এই ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেক গাছের ডাল ভেঙে সড়কের ওপর পড়ে যায়। বেতাগী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঢালীকান্দা গ্রামের , ঝড়ের তীব্রতা এতটাই ছিল যে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে বাধ্য হন। ঝড়ের সময় বাজারে থাকা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দোকানের শাটার নামিয়ে আশ্রয় নেন। ঝড় থেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে আসতে শুরু করে।সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে থাকা গাছ উপড়ে পড়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুতের তারের ওপর গাছের ডাল ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা দ্রুত গাছ সরিয়ে সড়ক সচল করার উদ্যোগ নেন।এদিকে ঝড়ের কারণে কয়েকটি এলাকার টিনশেড ঘর ও দোকানের চালা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। উপজেলার সচেতন মহল বলছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে কালবৈশাখী ঝড়ের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালা অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।বেতাগী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঢালীকান্দা গ্রামের বাসিন্দা রিপন কুমার ঢালী বলেন, মাত্র ৫ মিনিটের ঝড় হলেও এর প্রভাব ছিল ব্যাপক। ঝড়ের পরপরই দেখা গেছে আমাদের বসতবাড়ির এলাকায় চাম্বল, রেইনট্রি, মেহগনিসহ ৪ টি গাছ উপড়ে পড়ে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, হঠাৎ করে ঝড় হয়েছে। ঈদুল আযহার ছুটি থাকায় ঝড়ে কোথাও কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে, তা জরিপ করা হয়নি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।