বিশেষ প্রতিবেদক,বরগুনাবরগুনা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জুন মাসে ১৭ দিনে ২১টি মরদেহ উদ্ধার নিয়ে পুলিশ সুপার মো: কুদরত ই খুদা সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিং করেন। বুধবার (১৬ জুন) দুপুরে তার কার্যালয় প্রেস ব্রিফিং এ উপস্থিত ছিলেন, জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ ও গণমাধ্যম কর্মিরা।প্রেস ব্রিফিং পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশ বিভিন্ন অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান, চুরি ডাকাতি প্রতিরোধ, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জন্য দিন রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ। তিনি বলেন, চলতি জুন মাসে ইতোমধ্যে বরগুনা জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় মোট ২১ টি মরদেহ উদ্ধার পূবর্ক সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনটি ঘটনায় ০৩ জন হত্যাকান্ড ঘটেছে। তিনি বলেন, চলতি মাসের ৮ জুন শামিম হত্যাকান্ডে তার স্ত্রী বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় মামলা করে। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ৩ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৩ জুন পাথরঘাটা পৌরসভার পানি উন্নয়ন র্বোডের দক্ষিন পাশে মিজানুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তার ভাই মোঃ আবুল কালাম বাদী হয়ে পাথরঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করে। এই মামলায় দুইজন এজাহার নামি আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যহত আছে। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী, শীর্ষ সন্ত্রাসী, কিশোর গ্যাং এর হোতা ইব্রাহিম হোসেন ওরফে কালু ওরফে বস্তি কালু নিজে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করেন। শীর্ষ সন্ত্রাসী কালুর নামে মাদক সন্ত্রাস চাঁদাবাজি বিভিন্ন ধরনের একাধিক মামলা রয়েছে। কালুকে র্যাব ও পুলিশ একাধিকবার গ্রেফতার করেছে। কালু ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর যখন করে। পরবর্তীতে গোলাম মোস্তফার আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে সন্ত্রাসী কালুকে গণপিটুনি ও কুপিয়ে হত্যা করে। এ সংক্রান্তে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তিনি বলেন, জুন মাসে ৭ টি ঘটনায় ৯ জন ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করে। এর মধ্যে ১০ জুন ঢলুয়া গ্রামের মোসাঃ নুপুর বেগম (৩৫) ও তার ছেলে শাহাজাদা (০২) পুকুরে গোসল করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যায়। জুন মাসের ০৭ তারিখ সকালে পরিমল চন্দ্র (৫০) বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মারা যায়। এ ছাড়া ৫ জুন সকালে মোঃ মহিউদ্দিন (৪০) বজ্রপাতে নিহত হন। গত ০৭ জুন সকালে মোঃ ওলিউল্লহ (৪৫) নদীতে মাছ ধারার সময় বজ্রপাতে নিহত হয়েছে। গত ০৩ জুন সকালে আমতলীতে ইউসুফ মাওলানার নির্মনাধীন ভবনের ভূগর্ভস্থ পানির টাংকি পরিষ্কার করার সময় টাংকির ভিতরে গ্যাসের কারনে অক্সিজেন না থাকায় জাহিদ (৩৫), জাফর (৫৫) নিহত হন। গত ০৮ জুন বিকালে বরগুনা জেলার আমতলী থানাধীন মোঃ আবু তালাহ (০২) তার নিজ বাড়ীর পুকুরের ভিতর পড়ে নিহত হন। গত ১০ জুন দুপুরে বরগুনা সদর হাসপাতালে ডাস্টবিনে ০৩ মাস বয়সের একটি ভ্রুুন বরগুনা থানা পুলিশ উদ্ধার করে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বরগুনায় আত্মহত্যাজনিত ০৭ টি ঘটনায় ৯ জন ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করেন।এর মধ্যে ০৬ জুন বিকালে বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে পৃথক দুটি রুম থেকে ইতি রানী (৩৪), তার দুই মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাস (০৩) আরাধা বিশ্বাস (১২) এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন ০৫ জুন রাত হতে ১৩ জুন সকাল ০৭ টার মধ্যে যে কোন সময় বরগুনা সদর থানাধীন ছালেহা বেগম (৯৩) বাধর্ক্য জনিত রোগ মারা যায়। এ ছাড়া ১৩ জুন বরগুনা সদরে মোসাঃ রুবি আক্তার কনা (৩৪) আত্মহত্যা করে। গত ১২ জুন রাতে বরগুনা জেলার বামনার মোঃ আবির হোসেন ওরফে এহছান হাওলাদার (১৮) আত্মহত্যা করে। গত ১৩ জুন রাতে বেতাগীর প্রনিতা (২১)আত্নহত্যা করে।গত ০৭ জুন রাতে তালতলীর মোঃ মামুন খান (৩০) আত্নহত্যা করে।গত ১৪ জুন সকালে তালতলী থানায় কর্মরত কনস্টেবল মোঃ ফারুক গাজী আত্নহত্যা করে। পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোর রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রুজুকৃত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো অপরাধীকে আইনের আওতার বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি আত্মহত্যা ও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সকল শ্রেনী পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করি।