কুমিল্লা জেলার প্রতিনিধি “বিশ্ব মিডিয়া” নূরে আলম (শাহারিয়া)
১৮ জুন ২০২৬ ইং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিকল্পিত অপপ্রচার, মানহানি এবং প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন কুমিল্লার মুরাদনগরের বাসিন্দা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।**ঘটনার বিবরণ**গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুরে অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মোঃ হাবিবুর রহমান বেগের নজরে আসে যে, ফেসবুকের দুটি আইডি—‘Sanjida Sazia’ এবং ‘Sk Sakil’—থেকে তার নামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। অভিযোগকারী জানান, উল্লিখিত আইডিগুলো ব্যবহার করে তার ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত অতীত নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা হচ্ছে। মানহানিকর এই অপপ্রচারের পাশাপাশি তাকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা তাকে ও তার পরিবারকে চরম মানসিক চাপের মুখে ঠেলে দিয়েছে। একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হিসেবে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও মার্জিত জীবনযাপনকারী এই ব্যক্তি এখন নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।**আইনগত অবস্থান ও সাইবার অপরাধের মাত্রা**ডিজিটাল নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া পরিচয় (Fake ID) ব্যবহার করে ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরে ‘ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন’ বা চরিত্র হননের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। প্রচলিত পেনাল কোড এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে অশালীন মন্তব্য করা এবং কাউকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করলে ডিজিটাল ফরেনসিকের মাধ্যমে অপরাধীকে শনাক্ত করা সম্ভব।ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান বেগের দায়ের করা জিডির প্রেক্ষিতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানা গেছে। পুলিশের সাইবার ইনভেস্টিগেশন ইউনিট এখন ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ করছে।**নাগরিক নিরাপত্তা ও জনমনে প্রতিক্রিয়া**এই ঘটনাটিকে কেবল ব্যক্তিগত মানহানি হিসেবে দেখছেন না সচেতন নাগরিকরা। স্থানীয়দের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যে কাউকে নিয়ে এ ধরনের উসকানিমূলক প্রচারণা জননিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি। যদি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে এই প্রবণতা রোধ করা না যায়, তবে অদূর ভবিষ্যতে এটি সামাজিক অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।**প্রশাসনের কাছে দাবি**ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী। বিশেষ করে: * ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে অপরাধীদের ব্যবহৃত ডিভাইসের আইপি অ্যাড্রেস শনাক্তকরণ। * ডিজিটাল সাক্ষ্য (Digital Evidence) সংরক্ষণ করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। * অপপ্রচারের নেপথ্যে থাকা কুচক্রী মহলের ব্যক্তিগত বা স্থানীয় বিরোধের যোগসূত্র উদ্ঘাটন করা।একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের মতো সম্মানীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের বিদ্বেষ ছড়ানো সাইবার আইনের একটি বড় লঙ্ঘন। ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান বেগ প্রশাসনের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে আশা প্রকাশ করেছেন যে, ডিজিটাল ফরেনসিক ও পুলিশি তৎপরতার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীরা দ্রুত শনাক্ত হবে এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন।