নিজস্ব প্রতিবেদক,বরগুনা
বরগুনার উপকূলীয় উপজেলা পাথরঘাটায় দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংকট জনজীবনের পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্য অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। দিনের অধিকাংশ সময় লোডশেডিং থাকায় বরফকলগুলোর উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বরফের অভাবে অনেক মাছ ধরার ট্রলার গভীর সাগরে যেতে পারছে না। ফলে জেলে ও ট্রলার মালিকরা প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের পর টানা তিন থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে ঘরোয়া জীবন থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম সব ক্ষেত্রেই দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিদ্যুৎ সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে মৎস্যনির্ভর এ উপজেলায়। বরফকলগুলো প্রয়োজনীয় উৎপাদন করতে না পারায় মাছ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত বরফ পাওয়া যাচ্ছে না। বরফের অভাবে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার অভিযান পিছিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক জেলে। এতে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে বরফকলগুলো পর্যাপ্ত উৎপাদন করতে পারছে না। বরফের অভাবে বহু ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না। প্রতিদিনই ট্রলার মালিক ও জেলেদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক বদিরুজ্জামান বলেন, বর্তমানে পাথরঘাটায় ভান্ডারিয়া থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রায় ৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সঞ্চালন লাইনের মাঝপথে মঠবাড়িয়া উপজেলার ৩৩ কেভি লাইন থাকায় প্রায়ই ভোল্টেজের ওঠানামা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিং দেখা দেয়। তিনি আরও বলেন, পাথরঘাটায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে হলে বরগুনা থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা জরুরি। এতে দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট অনেকটাই দূর হবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে।পাথরঘাটা পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আরিফ শাহরিয়ার বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে গ্যাসের সংকট তৈরি হওয়ায় জাতীয়ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। পাথরঘাটায় দৈনিক প্রায় ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ মেগাওয়াট। এ কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পাথরঘাটাতেও লোডশেডিং কমে আসবে।