সিলেট জেলা রিপোর্টার: শফিকুল ইসলাম
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর ইজারা বহির্ভূত এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসনের টাস্কফোর্স। অভিযানে অবৈধ বালু পরিবহনে ব্যবহৃত ৭০টি বারকি নৌকা জব্দ করে ঘটনাস্থলেই ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ সময় দুজনকে আটক করা হয়।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের কালাইরাগ এলাকার ধলাই নদীর পূর্ব পাড় ও বালুচরে এ অভিযান পরিচালিত হয়।সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ তালুকদারের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিজিবি ও কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর হাসান বিজয়সহ পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।অভিযান চলাকালে ইজারা বহির্ভূত এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনে ব্যবহৃত ৭০টি বারকি নৌকা জব্দ করা হয়। পরে নৌকাগুলো ঘটনাস্থলেই ভেঙে ফেলা হয়। একই সময় দুজনকে আটক করা হয়।আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর ব্যক্তির বয়স বিবেচনায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।অভিযানের বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ তালুকদার বলেন, ধলাই নদীর ইজারা বহির্ভূত এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বারকি নৌকা ব্যবহার কিংবা অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কোয়ারি খুলে কর্মসংস্থানের দাবি স্থানীয়দেরএদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কোম্পানীগঞ্জের মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থানের বড় একটি অংশ পাথর কোয়ারি ও পাথরকেন্দ্রিক ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরে পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় উপজেলার বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে দাবি তাদের।স্থানীয়দের ভাষ্য, কোয়ারি বন্ধ থাকায় অনেক পরিবারকে দিনমজুরি ও ছোটখাটো কাজের ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। কেউ কেউ পর্যাপ্ত কাজ না পেয়ে একবেলা খেয়ে কিংবা ধারদেনা করে দিন কাটাচ্ছেন বলেও জানান তারা।তাদের দাবি, কোয়ারি বন্ধের পর থেকেই বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি না হওয়ায় অনেক দরিদ্র মানুষ বিকল্প জীবিকার সন্ধান করছেন। এর মধ্যে কেউ কেউ বারকি নৌকা ব্যবহার করে হাতে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছেন।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, প্রশাসনের দৃষ্টিতে বালু উত্তোলন অবৈধ হলেও অনেক হতদরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের কাছে এটি পরিবার চালানোর অন্যতম উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের পাশাপাশি দরিদ্র মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি।তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় কোম্পানীগঞ্জের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। কোয়ারি খোলার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আশ্বাস পাওয়া গেলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছেন না তারা।স্থানীয়দের একমাত্র দাবি, পরিবেশ ও আইনগত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কোম্পানীগঞ্জের পাথর কোয়ারিগুলো চালুর উদ্যোগ নিতে হবে এবং হাজারো শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দরিদ্র মানুষের জীবিকার বিষয়টিও মানবিকভাবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।