বিশেষ প্রতিনিধিঃ
পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত, জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জলসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বরগুনায় খাল খনন ও পুনঃখননের কাজ এগিয়ে চলছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরগুনার উদ্যোগে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে CDRSSWRMP প্রকল্পের আওতায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৬৮ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি এরই মধ্যে প্রায় ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে নাব্যতা হারানো এবং বিভিন্ন কারণে সংকুচিত হয়ে পড়া খালগুলো পুনঃখননের ফলে স্বাভাবিক হচ্ছে পানির প্রবাহ। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমিতে জমে থাকা পানি দ্রুত সরে যাওয়ার পাশাপাশি জনদুর্ভোগও কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বরগুনার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে খাল ও জলাশয়ের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর এলাকাগুলোতে সেচের জন্য স্থানীয় জলসম্পদের ওপর নির্ভর করতে হয় কৃষকদের। খাল পুনঃখননের ফলে শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি কৃষিজমিতে ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে। এতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এলজিইডি বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে CDRSSWRMP প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬৮ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের কাজ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের অগ্রগতি প্রায় ৯৮ শতাংশ। খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা নিরসনে সহায়তা করবে এবং কৃষকরা সেচ সুবিধাসহ বিভিন্নভাবে উপকৃত হবেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু খাল খনন করলেই এর সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না। খালগুলো যাতে পুনরায় দখল, পলি ও বর্জ্যে ভরাট হয়ে না যায়, সেদিকে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে খাল সংরক্ষণ করা গেলে পানি ব্যবস্থাপনার সুফল আরও কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খালগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুনঃখননের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা গেলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমার পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমেও কৃষিকাজে পানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে।
বরগুনায় ৬৮ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন তাই শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি জেলার কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ। টেকসই রক্ষণাবেক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব খালকে কার্যকর রাখা গেলে উন্নত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, সমৃদ্ধ কৃষি এবং নিরাপদ পরিবেশ গড়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।