মোঃ বজলুর রহমানঃ
-কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো, সারের অপচয় রোধ এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের কাছে সরকারি সার পৌঁছে দিতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভর্তুকি মূল্যে সার বিক্রি করা হচ্ছে। জমির পরিমাণ ও ফসলের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণে সার কিনতে পারছেন কৃষকরা।বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) কাটিগ্রাম আদর্শ বাজারে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নির্ধারিত সার বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্র ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সিল ও স্বাক্ষরিত সার ক্রয়ের পরিমাপ পত্র নিয়ে কৃষকরা সারিবদ্ধভাবে সার সংগ্রহ করছেন। বিক্রয়কেন্দ্রে কোনো ধরনের জটলা বা বিশৃঙ্খলা ছাড়াই নির্ধারিত সরকারি মূল্যে সার বিক্রি হতে দেখা যায়। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিএডিসি অনুমোদিত বীজ ও সার ডিলার মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোঃ আলী হোসেন জানান, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে তার বিক্রয়কেন্দ্রের জন্য ১৩.৩০ টন ডিএপি, ৩.৮০ টন টিএসপি এবং ১০.৩০ টন এমওপি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।তথ্য নিয়ে জানা যায়, কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে বিএডিসি অনুমোদিত ২জন এবং বিসিআইসি অনুমোদিত ১জন ডিলার রয়েছেন। এছাড়া খুচরা পর্যায়ে কৃষকদের কাছে সার বিক্রির জন্য রয়েছে ৯টি বিক্রয় পয়েন্ট।একই বাজারে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত বিসিআইসি ডিলার মেসার্স নুজগর এন্ড সন্স-এর বিক্রয়কেন্দ্রেও একই নিয়মে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করতে দেখা যায়। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মোঃ দেলোয়ার হোসেন সার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম ও সার বিক্রেতা মোঃ আব্দুল্লাহ জানান, কৃষকরা যাতে নির্ধারিত মূল্যে প্রয়োজন অনুযায়ী সার পান, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। জমির পরিমাণ অনুযায়ী সারের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে, ফলে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের প্রবণতা ও অপচয় দুটোই কমবে।মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষিবিদ ও কৃষি অফিসার মোঃ মাসুম ভূঁইয়া বলেন, কৃষকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নির্ধারিত মূল্যে সার বিতরণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। সার অপচয় রোধ এবং কৃষকদের হয়রানিমুক্ত সেবা দিতে কৃষি বিভাগের মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।