ঝালকাঠি সংবাদদাতা:
কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে যুবদল নেতা রবিউল হোসেন তুহিন কে নিয়ে ঝালকাঠি পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড ঘিরে নির্বাচনী আলোচনা ও পর্যালোচনা চলছে। শহরের এই গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডটিতে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব দিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এই নেতা। আসন্ন ঝালকাঠি পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ছে। এরই মধ্যে জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল হোসেন তুহিনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততাকে কাজে লাগিয়ে তিনি কাউন্সিলর পদে প্রার্থীর প্রস্তুতিতে অনেকটা এগিয়ে আছেন তুহিন।রবিউল হোসেন তুহিন ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিনয়কাঠি ইউনিয়নের উত্তমনগর গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিএ ও এলএলবি ডিগ্রিধারী এবং বর্তমানে আইন পেশায় শিক্ষানবিশ হিসেবে রয়েছেন। ঝালকাঠি পৌরসভার পূর্ব চাঁদকাঠি এলাকার বসুন্ধরা রোডে ছোটবেল থেকে বেড়ে ওঠেন।তুহিনের বাবা মরহুম অ্যাডভোকেট সিদ্দিক হোসেন ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জেলা জজ কোর্টের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর মা মরহুমা হোসনে আরা সিদ্দিক ছিলেন ঝালকাঠি জেলা মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী। পারিবারিকভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তুহিন ছাত্রজীবন থেকেই দলীয় ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে এবং এসব মামলায় তাঁকে কারাগারেও যেতে হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা। সম্প্রতি ২ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় মতবিনিময়, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতে তুহিনের উপস্থিতি বেড়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এবং স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তিনি জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মাদকবিরোধী কার্যক্রমকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন তুহিন। তাঁর দাবি, ২ নং ওয়ার্ডে মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তরুণ ও অভিভাবকদের সচেতন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিট পুলিশের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে রবিউল হোসেন তুহিন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে ২ নং ওয়ার্ডের নাগরিকদের মৌলিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে কাজ করতে চাই। পরিচ্ছন্নতা, সড়ক যোগাযোগ, পানি নিষ্কাশনসহ নাগরিক সেবার মানোন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই।”এদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতায় ২ নং ওয়ার্ডে ধীরে ধীরে নির্বাচনী আবহ তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, নির্বাচনে প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সামাজিক কর্মকাণ্ড, নাগরিক সমস্যা সমাধানে ভূমিকা এবং ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।সদা হাস্যোজ্জ্বল সাধারণ মানুষের বন্ধু রবিউল হোসেন তুহিন কাউন্সিলর হিসাবে নির্বাচিত হলে এলাকাবাসী উপকৃত হবেন বলে সচেতন মহল মনে করেন।