স্বপন কুমার ঢালী, বেতাগী (বরগুনা):
বরগুনায় একটি বিদ্যালয়ে আগুন আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। আজ রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বেতাগী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এঘটনার খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জড়ো হলে, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯ টার সময় সাইক্লোন শেল্টার ভবনের তৃতীয় তলায় তৃতীয় শ্রেণির ক্লাশে শিক্ষার্থীরা জানালা পাশে বৈদ্যুতিক তারে আগুন দেখতে পায়। এসময় ওই শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আগুন, আগুন বলে চিৎকার দিতে দিতে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে থাকে। এসময় ওই ভবনের অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা চিৎকার দিয়ে দৌড়ে হুড়াহুড়া করে নামতে থাকে। হুড়াহুড়ি করে নামতে গিয়ে ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। তৃতীয় শ্রেণির প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী মেহেরাজাবিন দিনা জানায়, আগুন দেখে আমরাই প্রথমে চিৎকার দিয়ে সিঁড়ি থেকে নেমে পড়ি।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন আক্তার বলেন, আহতদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তারকে বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির হুমায়রা ও প্রথম শ্রেণির সিথিসহ বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়।তিনি আরো বলেন, ‘ বৈদ্যুতিক মিটারে শর্টসার্কিট হয়েছে। এ সময় মিটার থেকে স্পার্ক হতে দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে। দ্রুত চারতলা ভবন থেকে নামতে গিয়ে কয়েকজন আহত হয়েছে। ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বিদ্যালয়ে ছুটি ঘোষণা করা হয়।’তবে বিদ্যালয়ে আগুন লাগেনি বলে জানিয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি তদারকি ও পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সার্থক দাসের মা শুভ্রা রানী দাস বলেন,’ সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগুন লেগেছে। এই খবরে আতংক ছড়িয়ে পড়ে, তারাহুরা করে দৌড়ে বিদ্যালয়ে আসি।’ বেতাগী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন জানিয়েছেন, ঘটনাটি কেন ও কীভাবে ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আজ বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঘটনা সঠিক কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।