নিজস্ব প্রতিবেদক:
আনিছুরজ্জামান খোকননরসিংদীর মনোহরদীতে ২৬ হাজার ১০০ পিস ডিমবোঝাই মাহিন্দ্র পিকআপ ডাকাতির ঘটনার মাত্র সাত দিনের মধ্যে রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্য এবং লুণ্ঠিত মালামালের এক ক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।অভিযানে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ, দেশীয় অস্ত্র, গামছা, লুণ্ঠিত মাহিন্দ্র পিকআপ, ৯৮টি ডিমের ক্যারেট এবং ডিম বিক্রির নগদ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মনোহরদী থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।যেভাবে ঘটে ডাকাতির ঘটনাপুলিশ জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে মনোহরদী উপজেলার একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের চঙ্গভান্ডা এলাকায় ইটাখোলা-মঠখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কে ইসমাইল হোসেনের বাড়ির সামনে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।অজ্ঞাতনামা ডাকাতরা পিকআপ দিয়ে সড়কে বেরিকেড সৃষ্টি করে ডিমবোঝাই মাহিন্দ্র পিকআপের গতিরোধ করে। এরপর চালক তাজুল ইসলাম (৪৮) ও হেলপার শাহাদাত হোসেনকে (৪০) দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে হাত-পা ও মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলে।পরে তাদের ডাকাতদের ব্যবহৃত পিকআপে তুলে নিয়ে অন্যত্র ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা ২৬ হাজার ১০০ পিস ডিমসহ মাহিন্দ্র পিকআপটি নিয়ে পালিয়ে যায়। লুণ্ঠিত ডিমের আনুমানিক বাজারমূল্য ২৩ লাখ ৩০ হাজার ৭৯৫ টাকা বলে পুলিশ জানিয়েছে।এ ঘটনায় পিকআপের মালিক মো. মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় মামলা করেন।
৫ সেপ্টেম্বর দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৯৭ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।নারায়ণগঞ্জ ও নোয়াখালীতে অভিযানমামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে মনোহরদী থানা পুলিশের একটি দল ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে নারায়ণগঞ্জ ও নোয়াখালী জেলায় অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আশিকুর রহমান, শিবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রায়হান সরকার এবং মনোহরদী থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশার দিকনির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।অভিযানের একপর্যায়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানাধীন কাঁচপুর মহাসড়ক এলাকা থেকে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত পিকআপ, দেশীয় অস্ত্র ও গামছা উদ্ধার করা হয়।পরে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১২ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর সেনবাগ দক্ষিণ বাজারে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে লুণ্ঠিত মাহিন্দ্র পিকআপ, ডিমের ক্যারেট ও ডিম বিক্রির নগদ ১০ হাজার টাকাসহ ক্রেতা জসিম উদ্দিনকে (৬০) গ্রেপ্তার করা হয়।আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিপুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ডাকাত দলের সদস্যদের মধ্যে দুজন আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তারা ডাকাতির সঙ্গে জড়িত আরও পাঁচজনের নাম প্রকাশ করেছেন।গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্যপুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। তারা বিভিন্ন জেলার সড়ক ও মহাসড়কে নিয়মিত ডাকাতি করে আসছিল।এছাড়া গত ৮ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় একই কায়দায় ডিমের গাড়িতে ডাকাতির ঘটনাতেও গ্রেপ্তারকৃতদের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।উদ্ধার করা মালামাললুণ্ঠিত মালামাল:মাহিন্দ্র পিকআপ, রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা মেট্রো-ন-২১-৯৬৭২৯৮টি ডিমের ক্যারেটডিম বিক্রির নগদ ১০ হাজার টাকাডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মালামাল:মাহিন্দ্র পিকআপ, রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা মেট্রো-ন-১৯-২৯৯৮৩টি রামদা২টি লোহার রড১টি হাতুড়ি২টি স্ক্রু ড্রাইভার১টি তার কাটার প্লাস৪টি গামছা৩টি মোবাইল ফোনগ্রেপ্তার ৫ জন১. ইমন (২৮), পিতা—বাদশা মিয়া, বড় নগর, সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ।২. মো. রিফাত হৃদয় (২৮), পিতা—মো. মজিবুর রহমান, বড় নগর, সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ।৩. আবদুল্লা আল মুন্না ওরফে রোমান (২৭), পিতা—মো. জসিম উদ্দিন, গুনাইঘর, দেবিদ্বার, কুমিল্লা।৪. রহমত আলী ওরফে জিন্তুর, পিতা—মো. রাজা মিয়া, ভুইয়ার পাড়, ইটনা, কিশোরগঞ্জ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে।৫. জসিম উদ্দিন (৬০), পিতা—মৃত আবু তাহের, বাবুপুর, ৯ নম্বর ওয়ার্ড, সেনবাগ পৌরসভা, নোয়াখালী।পুলিশের এ অভিযানের ফলে দীর্ঘপথে পণ্যবাহী যানবাহনে সংঘটিত ডাকাতির একটি চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ডাকাতির সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।