শেফাইল উদ্দিন, কক্সবাজার
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের বিশেষ অভিযানে তিনটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র, ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, পিস্তলের গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নারীসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে চকরিয়া থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিরা ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র-গুলি তৈরি ও কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত।রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বদরখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ছনুয়াপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, বদরখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ছনুয়াপাড়া এলাকায় একটি বসতঘরে একদল দুষ্কৃতকারী ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছে। খবর পেয়ে চকরিয়া থানার একটি বিশেষ অভিযানিক দল প্রায় ২ কিলোমিটার দুর্গম পথ রাতের অন্ধকারে পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়িটি ঘেরাও করে।পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলে অভিযানিক দল তাদের আটক করে। তবে এ সময় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।গ্রেফতারকৃতরা হলো,রাজিব ওরফে শুটার রাজিব (২৬), নমি উদ্দিন ওরফে নমি ডাকাত (৪০), জসিম উদ্দিন ওরফে জসু ডাকাত (২৬), মো. সাগর রানা ওরফে শুটার সাগর (২০) এবং জহুরা বেগম (৪৫)।গ্রেফতার ব্যক্তিদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়—১টি দেশীয় তৈরি দুইনালা রাইফেল১টি দেশীয় তৈরি একনালা রাইফেল১টি দেশীয় তৈরি শর্টগান৫৮ রাউন্ড রাইফেলের গুলি৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি২ রাউন্ড তাজা শর্টগানের কার্তুজ২ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজের খোসা১টি ক্লিনিং রডঅস্ত্র ও গুলি তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম।প্রথম অভিযানে গ্রেফতারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই বদরখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হালকাচাপাড়া এলাকায় দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শহর বানু (৫৫) পালানোর চেষ্টা করলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার বসতঘরের পেছনের পুকুরে থাকা একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে ৭৬৭ রাউন্ড রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়।পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম অভিযানে ৫৮ রাউন্ড এবং দ্বিতীয় অভিযানে ৭৬৭ রাউন্ডসহ মোট ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ওই এলাকায় অস্ত্র ও গুলি তৈরি, অস্ত্র-গুলি কেনাবেচা এবং ডাকাতির জন্য অন্যান্যদের কাছে অস্ত্র ভাড়া দেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।পুলিশের দাবি, তারা চকরিয়া থানা এলাকাসহ বিভিন্ন সড়কে সংঘটিত ডাকাতি এবং আন্তঃজেলা ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়েও প্রাথমিক তথ্য দিয়েছে। উদ্ধার করা অস্ত্র ও গুলি ব্যবহার করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা এবং মাছের ঘেরসহ বিভিন্ন স্থানে ডাকাতির পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়েও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধে মামলা রয়েছে এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার অভিযোগে অস্ত্র আইনে এবং ডাকাতির প্রস্তুতি ও ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার ঘটনায় প্রচলিত আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।চকরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ জানান, মাদক, অবৈধ অস্ত্র, ডাকাতিসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।