কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি “বিশ্ব মিডিয়া“ নূরে আলম (শাহারিয়া) বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬বিশেষ প্রতিবেদক, কুমিল্লা
সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদকের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন এবং সার্বিক অপরাধ দমনে অনন্য সাফল্য দেখিয়ে দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ জেলা পুলিশ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। একই সাথে এই দৃষ্টান্তমূলক সফলতার পেছনের মূল কাণ্ডারি, কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুজ্জামান, পিপিএম (সেবা)-কে দেশের শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার হিসেবে সম্মানিত ও পুরস্কৃত করা হয়েছে।গত শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকার রাজারবাগে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘ত্রৈমাসিক অপরাধ সভা (এপ্রিল-জুন ২০২৬: দ্বিতীয় কোয়ার্টার)’-এ কুমিল্লা জেলা পুলিশের এই সাফল্যের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান পিপিএম-এর হাতে এই সম্মাননা স্মারক ও পুরষ্কার তুলে দেন।অপরাধ দমনে নতুন মাইলফলক কুমিল্লা জেলাকে অপরাধমুক্ত রাখতে সাম্প্রতিক সময়ে পরিচালিত হয় একাধিক সাঁড়াশি অভিযান। সীমান্তবেষ্টিত এলাকা হওয়ায় কুমিল্লার বিভিন্ন পথ দিয়ে মাদকের চোরাচালান ও অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশ একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান পদায়ন হওয়ার পর থেকেই কৌশলগত রূপরেখা প্রণয়ন করে জেলা পুলিশকে নতুন উদ্যোমে মাঠে নামান। তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, তাজা গুলি, দেশীয় অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ বিভিন্ন রকমের প্রাণঘাতী মাদকদ্রব্য।পেশাদারিত্ব ও নির্ভীক নেতৃত্বের স্বীকৃতি অপরাধী শনাক্তকরণ, ক্লুলেস অপরাধের দ্রুত রহস্য উন্মোচন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লক্ষণীয় উন্নতি এবং মাদক-অস্ত্র উদ্ধারে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সভায় কুমিল্লা জেলা পুলিশকে প্রথম স্থান এবং এসপি আনিসুজ্জামানকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। তার এই ‘পিপিএম’ (প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক) প্রাপ্তি কুমিল্লা জেলা পুলিশের পুরো দলের অদম্য আত্মত্যাগ ও সততার এক উজ্জ্বল দলিল।জনবান্ধব পুলিশিং ও সেবা শুধুমাত্র অপরাধ দমনই নয়, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান গ্রহণ করেন একাধিক প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। থাগুলোতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য হ্রাস, জিডি ও মামলা গ্রহণে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং ‘হ্যালো এসপি’সহ নানা সেবামূলক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশিংয়ের যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে, তা আজ দেশজুড়ে প্রশংসিত।সম্মাননা প্রাপ্তিতে প্রতিক্রিয়া ও অঙ্গীকার এই গৌরবময় স্বীকৃতি অর্জনের পর এক প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান, পিপিএম বলেন—”এই অর্জন আমার একার নয়; এটি কুমিল্লা জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্যের অক্লান্ত পরিশ্রম, ত্যাগ এবং কুমিল্লার সাধারণ জনগণের সার্বিক সহযোগিতার ফসল। পদক ও সম্মাননা আমাদের দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—কোনো ছাড় নয়। কুমিল্লাকে একটি পুরোপুরি নিরাপদ, মাদকমুক্ত ও অপরাধমুক্ত আধুনিক জেলা হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য।কুমিল্লা জেলা পুলিশের এই ঐতিহাসিক অর্জন ও এসপি আনিসুজ্জামানের পুরস্কার প্রাপ্তিতে জেলার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অভিনন্দন জানিয়েছেন। সাধারণ জনগণের মতে, এমন সাহসী ও বিচক্ষণ নেতৃত্বের ফলেই আজ কুমিল্লায় শান্তির বাতাস বইছে।