বিশেষ প্রতিবেদন,বরগুনা
দ্বিতীয় স্ত্রীর নিকট যৌতুক দাবি করে নির্যাতন করার অভিযোগে
বরগুনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির নির্দেশ বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার ওই ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ লায়লাতুল ফেরদৌস এ আদেশ দিয়েছেন। মাধ্যমিক জেলা শিক্ষা অফিসার বর্তমানে বরগুনায় কর্মরত। তিনি চট্টগ্রাম জেলার পাহাড়তলী উপজেলার প্রান হরিদাস রোড, দক্ষিন কাট্টলির মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে। এ তথ্য বুধবার নিশ্চিত করেন বাদির আইনজীবী আবদুল ওয়াসি মতিন।
জানা যায়, বাদি ৫ অক্টোবর ওই ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেন। তার স্বামী মো: জসিম উদ্দিন বরগুনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। তিনি বাদির গ্রামের একটি স্কুল পরিদর্শনে যায়। সেই সময় জসিম উদ্দিন তাকে দেখে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। বাদি বিবাহিত জেনেও তার স্বামীকে তালাক দেওয়াতে বাধ্য করেন। বাদি তার পূর্বের স্বামীকে তালাক দিয়ে জসিমকে বিয়ে করেন। কিছুদিন পর জসিম বাদির নিকট ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করেন। বাদি টাকা দিতে না চাইলে জসিম উদ্দিন বাদিকে মারধর করেন। বাদি ওই ট্রাইব্যুনালে মামলা করলে জসিম বাদির সঙ্গে আপোস করে মামলা তুলে নেয়।
বাদি বলেন, আমি বরগুনা সদর উপজেলার নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ছিলাম। আমার স্বামী জসিম উদ্দিন তার প্রথম বিয়ে গোপন করে আমাকে ২০২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী বিয়ে করেন। আমাকে নিয়ে বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসে একটি ফ্লোরে বাসা করে রাখতেন। কিছুদিন পর জসিম উদ্দিন আমার নিকট ১০ লাখ টাকা যৌতুক চায়। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। আমি তার বিরুদ্ধে ওই ট্রাইব্যুনালে মামলা করি। জসিম উদ্দিন আমার সঙ্গে আপোস করে। আমি মামলা তুলে নেই। পরে জসিম উদ্দিন ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর আমাকে ৯১ লাখ টাকার কাবিন দেয়।
বাদি আরও বলেন, আসামি জসিম উদ্দিন তার নিজ বাড়িতে বিল্ডিং নির্মান করার জন্য চলতি বছরের ২ অক্টোবর সকালে আবারও আমার নিকট ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করেন। আমি আগের মত যৌতুক দিত অস্বীকার করলে আমাকে মারধর করেন। আমি মামলা দায়ের করি।
বাদির আইনজীবী আবদুল ওয়াসি মতিন বলেন, বাদি বরগুনা সদর উপজেলার নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান। মামলা করার পরে ওই ট্রাইব্যুনাল বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম শরিয়ত উল্লাহকে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ মাসের ১ তারিখ অনুসন্ধান প্রতিবেদন দেয় বাদির মামলা ঘটনা সত্য নয়। বাদির পক্ষে ওই ট্রাইব্যুনালে আমি নারাজি দাখিল করি। ট্রাইব্যুনাল আসামী মো: জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। বাদির দেওয়া ফোন নম্বরে আসামী মো: জসিমকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন না। বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: ইয়াকুব হোসাইন বলেন, আমরা এখনো গ্রেফতারী পরোয়ানা পাইনি। গ্রেফতারী পরোয়ানা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নিব।