বিশেষ প্রতিবেদক,বরগুনা
পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধের জেরে বাবাকে মারধর ও ঘরে ঢুকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটপাটের অভিযোগে দুই ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন বাবা। সেই মামলায় কারাগারে রয়েছে দুই ছেলে। মামলার আসামি তালিকায় রয়েছে পুত্রবধূ ও নাতনী।
এ ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বঙ্গবন্ধু সড়কে মুক্তিযোদ্ধার বাসভবনে চলতি মাসের ২১ জানুয়ারি বেলা ১১টায়। মামলার বাদি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বাছেদ বাচ্চু (৭১) বাদী হয়ে বরগুনা থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
জানা যায়, বাদী অভিযোগ করেন, তার দুই ছেলে মো. সালাহউদ্দিন, মো. আবুল কালাম আজাদ, পুত্রবধূ কুলসুম আক্তার পূর্ণা, রিমা ও নাতনী সুরাইয়া খান দীর্ঘদিন পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘবদ্ধ হয়ে তার ওপর হামলা চালায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তিনি বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় অভিযুক্তরা তাকে ধাক্কা দিয়ে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি মারে। এমন আঘাতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। অভিযুক্তরা তার ঘরে ঢুকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মোসা. ফাতিমাকে মারধর করে রান্নাঘরে আটকে রাখে।
একপর্যায়ে ঘরে থাকা একটি ব্যাগ থেকে নগদ এক লাখ টাকা, তিন ভরি ওজনের দুইটি সোনার চেইন, এক ভরি ওজনের কানের দুল এবং ছয় ভরি ওজনের চারটি সোনার চুড়ি চুরি করে নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য ১৬ লাখ টাকা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত বাবা ও তার মেয়ে বরগুনা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়।
এ ঘটনার পরে বাদীর বড় ছেলে মো. সালাহউদ্দিনকে ঘটনার দিন (২১ জানুয়ারি) নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অপরদিকে ২৫ জানুয়ারি বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অপর একটি মামলায় হাজিরা দিতে গেলে ছোট ছেলে মো. আবুল কালাম আজাদকে আদালত কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
বরগুনা থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গ্রেফতারের পরে আদালতের বারান্দায় বড় ছেলে মো: সালাউদ্দিন বলেন, আমার মা মারা যাবার পরে বাবা প্রথমে তানিয়া নামের এক অল্প বয়সী নারীকে বিয়ে করে শহরের বাসার অর্ধক সম্পত্তি তার নামে লিখে দেয়। তিনি সম্পত্তি নিজ নামে পাওয়ার জন্য আদালতে তানিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তানিয়াকে ২৫ লাখ টাকা দিয়ে সেই সম্পত্তি নিজের নামে নেয়। কিছু দিন পর বাবা ফাতেমা নামের আর এক নারীকে বিয়ে করেন। এখন আমাদের বাসা থেকে নেমে যেতে বলেন। আমরা দুই ভাই কোথায় যাব। আমার বাবা এক সময় বাসের ব্যবসা করতেন।
শহরের আর একটি জমি এক কোটি টাকায় বিক্রি করে একাধিক বিয়ে ও আমার বোন পারভিনকে দেয়। আমাদের কোনো টাকা দেয় না। বাবা যে অভিযোগ করেছেন তা সত্য নয়। বাবার গায়ে হাত দেওয়া তো দূরের কথা। তার মুখের দিক তাকিয়ে কোনো দিন কথা বলিনি। আমার সৎ মা ও বোন পারভিনের বুদ্ধিতে বাবা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করছেন। বাবা ভালো মানুষ।