জেলা প্রতিনিধি মোঃ বজলুর রহমান
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আটিগ্রাম ইউনিয়নের ভগবানপুর এলাকায় ত্রিফসলি কৃষিজমি কাটার অভিযোগ ৮ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও এখনো বন্ধ হয়নি অবৈধ কর্মকাণ্ড। বরং অভিযোগ উঠেছে, প্রকাশের দিন থেকেই আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অভিযুক্ত চক্র। রাতের আঁধারে ভারী ভেকু ও ডাম্পট্রাক ব্যবহার করে মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।স্থানীয়রা জানান, মালুটিয়া আরএস মৌজার ১৭৮ নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত দাগ নং ১০৭৫-এর ‘ইন্ডিয়ান প্রপার্টি’ হিসেবে পরিচিত জমিসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ ত্রিফসলি কৃষিজমি দিন দিন গর্তে পরিণত হচ্ছে। এতে ভগবানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ভবনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ পাশে থাকা বিএডিসির গভীর নলকূপ সেচ প্রকল্প এবং দুই পাশে থাকা বিদ্যুতের খুঁটিও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন,“প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে—এই আশায় আমরা অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু পত্রিকায় নিউজ হওয়ার পরও তারা আরও বেশি করে মাটি কাটছে। মনে হচ্ছে কেউ কিছুই করতে পারবে না।”ভয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না অনেকে ।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযুক্ত শহীদুল ইসলামের লোকজন এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। কেউ বাধা দিলে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে।ভগবানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাম্মদ জাবেদা খাতুন আবারও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,“নিউজ হওয়ার পর প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ আশা করেছিলাম। কিন্তু এখনো মাটি কাটা বন্ধ না হওয়ায় আমরা আতঙ্কিত।”প্রশাসনের আশ্বাস, মাঠে নেই দৃশ্যমান ব্যবস্থাএর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সদর এসি ল্যান্ডকে সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দিলেও এলাকাবাসীর অভিযোগ—এখনো কার্যকর অভিযান চোখে পড়েনি। ফলে অভিযুক্তরা সুযোগ নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।একজন কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“এভাবে চলতে থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই পুরো এলাকার ফসলি জমি শেষ হয়ে যাবে। তখন শুধু স্কুলই নয়, আশপাশের বসতবাড়িও ঝুঁকিতে পড়বে।”স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, ভেকু জব্দ, মাটি পরিবহন বন্ধ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।তাদের ভাষায়,“নিউজ হয়ে গেলেও যদি কেউ না থামে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? এখনই শক্ত হাতে দমন না করলে ভগবানপুরে আর চাষাবাদ থাকবে না।”মানিকগঞ্জ বিএডিসি সেচ সহকারী প্রকৌশলী তিতাস বলেন, “আমি ইউএনও মহোদয় কে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার জন্য অনুরোধ করব, আশা করি দ্রুতই এর দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা হবে ।”