নিজস্ব প্রতিবেদক
বরগুনায় রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া এক স্কুল শিক্ষকের এক লাখ ২৩ হাজার টাকা মাইকিং করে ফেরত দিয়েছেন স্থানীয় এক ব্যবসায়ী।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে বরগুনা শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন এলাকায় উপস্থিত হয়ে প্রমাণ সাপেক্ষে প্রকৃত ওই মালিককে কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দেন ব্যবসায়ী মো. বশির উদ্দিন। তিনি বরগুনা কাঁচা বাজারের আড়ৎদার।
জানা যায়, যাকাত দেওয়ার জন্য গরু কেনার জন্য রাখা ওই টাকা পথে হারিয়ে ফেলেন স্কুল শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান। তিনি বরগুনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। গত বুধবার (১১ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে বরগুনা পৌর শহরের সদর রোড হয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছিলেন কাঁচা বাজারের আড়ৎদার মো. বশির উদ্দিন। এ সময় স্টেডিয়াম এলাকায় সড়কের পাশে একটি খাম পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পরে খামটির মধ্যে কিছু আছে ভেবে হাতে তুলে বশির উদ্দিন দেখতে পান ভেতরে অনেক গুলো টাকা। এরপর আশপাশের বিভিন্ন মানুষকে জানালেও ওই টাকার প্রকৃত মালিক খুঁজে না পাওয়ায় মাইকিংসহ বিভিন্ন ব্যক্তির ফেসবুকে বিষয়টি জানিয়ে পোস্ট করতে বলেন। পরবর্তীতে মাইকিং শুনে টাকার সঠিক প্রমাণ দিতে পারায় স্কুল শিক্ষক খলিলুর রহমানকে কুড়িয়ে পাওয়া এক লাখ ২৩ হাজার টাকা ফেরত দেন ব্যবসায়ী বশির উদ্দিন।
টাকা ফেরত পেয়ে স্কুল শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান বলেন, গরু কিনে যাকাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে টাকা রেখেছিলাম। প্যান্টের পকেটে মোবাইল ফোন এবং অন্য টাকার সঙ্গে আলাদা একটি খামে ওই টাকা ছিল। আমার অজান্তেই পকেট থেকে টাকার খামটি রাস্তায় কখন পড়ে যায় তা আমি টের পাইনি। এরপর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও টাকা পাইনি। পরবর্তীতে মাইকিং শুনে যোগাযোগ করলে হারিয়ে যাওয়া টাকা আমি ফেরত পেয়েছি। টাকা কুড়িয়ে পাওয়া ব্যবসায়ী বশির উদ্দিনের বিষয়ে তিনি বলেন, নগদ টাকা পেয় লোভ সামলানো এটি আসলেই একটি বড় ঈমানের পরিচয়। নিখুঁত ঈমান ও সততা না থাকলে লোভ সামলানো অসম্ভব।
বশির উদ্দিন বলেন, গতকাল রাস্তায় পড়ে থাকা অবস্থায় একটি খামের মধ্যে এক লাখ ২৩ হাজার টাকা পেয়েছি। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে খোঁজাখুঁজি করলেও টাকার আসল মালিক খুঁজে পাইনি। পরে টাকা পাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে বরগুনা শহরে মাইকিং করার পরে প্রকৃত মালিক পাই।