জেলা প্রতিনিধি (কুমিল্লা) নুরে আলম (শাহারিয়ার) বিশ্ব মিডিয়া” ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ অনুসন্ধানের প্রতিবেদন প্রকাশ।কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ৩ নং আন্দিকুট ইউনিয়ন পরিষদে জালিয়াতির এক অভূতপূর্ব নজির স্থাপিত হযেছে। সরকারি খতিয়ানে থাকা তথ্য জালিয়াতি করে এবং ভুয়া ওয়ারিশ সেজে দেড় কোটি টাকার উপরে মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগউঠেছে একটি শক্তিশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে অভিযোগের আঙুল উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান, প্যানেল চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ, সচিবের সমন্বয়ে গঠিত একটি ‘ডকুমেন্ট জালিয়াতি ফ্যাক্টরির’ দিকে।*খতিয়ান জালিয়াতি ও পরিচয়ের লকোচরিঅনুসন্ধানে জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলার গাঙ্গেরকুট মৌজার (জে.এল নং ২২) **৩৬৪ নং খতিয়ানের** মালিক হিসেবে নথিভুক্ত আছেন ‘শিশু মিয়া, পিতা: সুরুজ মিয়া’। এই খতিয়ানের অধীন ৩৮৮, ৫৮১, ৫৮২, ৫৮৯ এবং ৬০৫ সহ বিভিন্ন দাগে মোট **৪৯ শতাংশ** জমি রয়েছে (যার মধ্যে নাল, ডোবা, বাড়ি ও পুকুর অন্তর্ভুক্ত)। বর্তমান বাজার দরে যার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকার উপরে।চঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শাহপুর গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম (NID: 1497527091)**, যার পিতা মৃত আকামত আলী (ওরফে সুরুজ মিয়া), তিনি নিজেকে মুরাদনগরের সেই ‘শিশু মিয়া’ দাবি করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেছেন। জালিয়াতির মাধ্যমে পিতার নাম ‘সুরুজ মিয়া’র স্থলে ‘আকামত আলী’ হিসেবে নিবন্ধিত করা হয়েছে।একই চক্রে এই সন্তান পাঁচ জন ভুয়া ওয়ারিশ অন্তর্ভুক্ত।শুধু নাম পরিবর্তনই নয়, নূরুল ইসলাম ওরফে শিশু মিয়া তার দুই ছেলে ও তিন মেয়েকে (যাদের স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) মুরাদনগরের স্থানীয় বাসিন্দা সাজিয়ে ওয়ারিশ সনদ গ্রহণ করেছেন। এই সনদের মাধ্যমে তারা স্থানীয় আদি বাসিন্দাদের পৈত্রিক সম্পত্তি গ্রাস করার পাঁয়তারা করছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সম্পূর্ণ বহিরাগত হওয়া সত্তেও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তাদের জন্ম সনদ ও নাগরিকত্ব সনদ সরবরাহ করেছে আন্দিকুট ইউনিয়ন পরিষদ।পলাতক চেয়ারম্যানের ‘রহস্যময়’ প্রত্যাবর্তন৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ৩ নং আন্দিকুট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান বলে জানা যায়। কিন্তু সম্প্রতি তার হঠাৎ আগমনে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, পুনরায় সম্পত্তি আত্মসাতের চূড়ান্ত দলিল দস্তাবেজ গুছিয়ে তিনি আবারও দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন।স্থানীয়রা ক্ষোভের সাথে জানান, “মুরাদনগরের ১৯ জন বিতর্কিত ও ফ্যাসিস্ট সরকারের দোস চেয়ারম্যান কেন এখনও বহাল তবিয়তে আছেন? তাদের আস্কারাতেই বহিরাগতরা স্থানীয় জমি দখল করার সাহস পাচ্ছে।**ভোগান্তির শেষ কোথায়?**তৃণমূলের সাধারণ মানুষের প্রশ্ন- এই জালিয়াতির দায়ভার কে নেবে? সরকার নাকি স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলো? বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদে টাকা ছাড়া কোনো ফাইলে সই মেলে না। অথচ টাকা দিলে ভুয়া তথ্য দিয়েও সরকারি সনদ মিলছে।এই চক্রের কারণে প্রকৃত ভূমি মালিকরা আজ ভিটেমাটি হারানোর ভয়ে আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন, আর জালিয়াতিরা প্রশাসনের নাকের ডগায় জাঁকজমকভাবে বসবাস করছে।এলাকাবাসীর তিন দফা দাবিঃ।১. **চেয়ারম্যানের অপসারণ:** দুর্নীতিগ্রস্ত চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানদের অবিলম্বে অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ।২. **সনদ বাতিল:** ৩ নং আন্দিকুট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গত কয়েক বছরে ইস্যু করা সন্দেহজনক সকল ওয়ারিশ ওনাগরিক সনদের তদন্ত ও বাতিল।৩. **আইনি ব্যবস্থা:** খতিয়ান ও নাম জালিয়াতির সাথে জড়িত নূরুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপই পারে মুরাদনগরের সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এবং এই ‘জালিয়াতি সিন্ডিকেট নির্মূল করতে।**তথ্যসূত্র:** ৩৬৪ নং খতিয়ান (গাঙ্গেরকুট মৌজা), স্থানীয় জবানবন্দি ও অনুসন্ধানী নখি।১. জাতীয় পরিচয় পত্র প্রত্যেক ব্যক্তির।২, খতিয়ান কপি।৩. ওয়ারিশ সনদ।৪. নাগরিক সনদ।৫. কর রশিদ। এবিষয়ে জাকির চেয়ারম্যানের মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন। আমি ছিলাম না আমার অগোচরে মনে হয় মেম্বাররা করছে। মুরাদনগরের এসিল্যান্ডকে তার হোয়াটস অ্যাপে বক্তব্য চাইলে তিনি বলেন আমার কাছে কাউকে পাঠালে আমি খতিয়ে দেখবো।