ঝালকাঠি সংবাদদাতা: ঝালকাঠি জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আয়োজনে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী মাদকাসক্তিমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে করনীয় শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৭ জুন বুধবার সকালে ঝালকাঠি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের (টিটিসি) হলরুমে টিটিসি’র অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিপার্টমেন্ট অব নারকোটিক্স কন্ট্রোল, বরিশাল অফিসের ডেপুটি ডিরেক্টর মোঃ তানভীর হোসেন খান। এসময় বক্তব্য রাখেন ঝালকাঠি রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর মোঃ সানোয়ার হোসেন, টিটিসি’র ইন্সট্রাক্টর আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রিপোর্টার্স ক্লাব ঝালকাঠি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নুরুজ্জামান, সহ অর্থ সম্পাদক আবুল খায়ের মাসুদ কাজি, নির্বাহী সদস্য সদস্য আজিজুর রহমান বশির প্রমুখ।কর্মশালায় বক্তারা বলেন, মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ। এটি শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ধ্বংস ডেকে আনে।মাদকাসক্তির ফলে শারীরিক ক্ষতি, লিভার, কিডনি, ও ফুসফুস নষ্ট হওয়া, হৃদরোগ ও স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতিসাধন হয়। এছাড়া ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক নিলে হেপাটাইটিস ও এইচআইভি (HIV) সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। মানসিক বিপর্যয়, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, মনোযোগের অভাব, হতাশা, এবং সিজোফ্রেনিয়ার মতো জটিল মানসিক রোগ দেখা দেয়। ধীরে ধীরে চিন্তাশক্তি ও আত্মনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা লোপ পায়। মাদকের পেছনে অর্থ ব্যয় করতে গিয়ে পরিবারে আর্থিক সংকট তৈরি হয়। পারিবারিক অশান্তি, পরকীয়া ও বিবাহ বিচ্ছেদের মতো ঘটনা ঘটে এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সমাজে চুরি, ছিনতাই, খুন ও ধর্ষণের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পায়। মাদকাসক্ত ব্যক্তি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার ফলে ব্যক্তি তার চাকরি বা আয় হারায়, যা পরিবার ও দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলে।