1. admin@bishwamedia.com : Main :
  2. news@bishwamedia.com : Bishwa Media : Bishwa Media
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঝালকাঠিতে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ কদবেল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন বিশ্বজিৎ সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির ২য় বৈঠক অনুষ্ঠিতসার উৎপাদন বাড়ানো ও আমদানিনির্ভরতা কমানোর সুপারিশ কক্সবাজারে ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা: দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ: সঞ্চয়পত্র, ট্রেজারি বন্ড, এফডিআর নাকি জমি—কোথায় লাভ বেশি? সিংগাইরে গৃহবধূকে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ ও শরীরে মরিচের গুঁড়া ছিটানো গ্রেপ্তার ৪ জ্বালানি তেলের মূল্য, সরবরাহ ও সংরক্ষণ সক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা বাঘাইছড়িতে ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধ: গুলিবিদ্ধ ৮ বছরের শিশু! মানিকগঞ্জে অর্থ-অলংকার নিয়ে উধাও গৃহবধূ, পরকীয়ার অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ স্বামী মানবিকতা ও সাংবাদিকতায় মানুষের পাশে জয়নাল আবেদীন রাজু

চুনারুঘাট সবজির বাজারে সিন্ডিকেট দাম আকাশছোঁয়া

  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বেড়েছে সবজির দাম। সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে সবজি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কাঁচামরিচের দাম আকাশছোয়া। কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ – ৪০০টাকা দরে। সেই সঙ্গে সপ্তাহের ব্যবধানে চাল, চিনি, তেল, ডাল নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সহ ও ব্রয়লার মুরগির দামও ঊর্ধ্বমুখী। শুক্রবার (৩১ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন পণ্যের দামের এ চিত্র পাওয়া যায়। এদিকে হঠাৎ করে সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে উপজেলার বাইরে থেকে সবজিবাহী ট্রাক আসতে দেরি হচ্ছে। আবার চাহিদার তুলনায় পণ্য কম আসছে। এছাড়া, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক জায়গায় সবজি খেত নষ্ট হয়ে গেছে। এসব কারণে দাম বাড়তি। তবে সরবরাহ সমস্যার কারণে কোন কোন অসাধু ব্যবসায়ী একে সবজির দাম বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের। বর্ষা মৌসুম এলেই নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার যে পুরোনো অভিযোগ, বর্ষা শুরুতেই তার প্রতিফলন দেখা যায় উপজেলার বিভিন্ন বাজারে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কারসাজিতে বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। কাঁচাবাজার থেকে মুদি, পোশাক, মুরগী থেকে গোস্ত প্রায় সব ক্ষেত্রেই দামের উর্দ্ধগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে সীমিত আয়ের মানুষের সংসার খরচে পড়েছে বাড়তি চাপ। ক্রেতাদের ভাষ্যমতে, গত সপ্তাহের তুলনায় বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে, আবার কিছু পণ্যের দাম আগেই বাড়ানো হয়েছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্যমতে, লম্বা বেগুন ৮০-১০০ টাকা কেজি, গোল বেগুন ১০০ টাকা, টমেটো ১০০-১২০ টাকা, শসা ১২০ টাকা, ক্ষিরা ৭০-৮০ টাকা, পুঁই শাক ৪০-৫০ টাকা কেজি, করলা ১০০ টাকা কেজি, ঢেঁরশ (ভ্যান্ডি) ১০০-১২০টাকা, মূলা ১০০ টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ৩৫০- ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেঁয়াজ ৫০–৬০ টাকা, লেবু ৪০-৫০ টাকা হালি, লাউ ১০০ টাকা, কাঁচা কলা ৬০ টাকা হালি পেঁপে ৪০–৫০ টাকা এবং বরবটি ১০০–১২০, লাউ ৭০-৮০ টাকা, করলা ১০০-১২০ টাকা কেজি, জালি কুমড়া ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। বাজারভেদে দামে কিছুটা তারতম্য থাকলেও সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাই স্পষ্ট। কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, বৃষ্টির দোহাই দিয়ে আর বর্ষা মৌসুমে চাহিদা বাড়ে জেনে শুনেই কিছু ব্যবসায়ী আগেভাগে দাম বাড়িয়ে দেন। ফলে বর্ষা শুরুতেই বাজারে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে দৈনন্দিন খরচের তালিকায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বর্ষা মৌসুমে সবজি চাষ ও সরবরাহ কমে যাওয়ার কথা বলছেন। তাদের দাবি, পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে। খুচরা পর্যায়ে কম দামে বিক্রি করা গেলে লোকসান গুনতে হবে। জাবেদ মিয়া নামে এক বিক্রেতা বলেন, বর্ষা কালীন সবজি এখন কম আসছে। আড়তে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে বিক্রি করছি। আরেকজনের ভাষ্য, বর্ষা শুরুর আগে থেকেই চাহিদা বেড়েছে। পাইকারি দামে চাপ পড়েছে। আমরা তো নিজেরা দাম ঠিক করি না, আড়তের দামের ওপর নির্ভর করতে হয়। বাজারে কেনাকাটা করতে একাধিক ক্রেতা বলেন, ভোক্তারা সব সময় এক ধরনের ভোগান্তির স্বীকার হয়। ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। নানা অজুহাতে আমাদের পকেট কাটা হচ্ছে। অন্যান্য দেশে অনেক পণ্যের দাম কমে বা স্থিতিশীল থাকে। আমাদের দেশে ঠিক উল্টোটা দেখা যায়। কিছু ব্যবসায়ী অতি মুনাফার লোভে মজুদ করে দাম বাড়িয়ে দেয়। সরকারি তদারকি বাড়লে এই প্রবণতা কমে আসতো। অনেকেই অভিযোগ করেন, বাজারে কার্যকর মনিটরিং না থাকায় সুযোগ সন্ধানীরা সহজেই দাম বাড়াতে পারেন। ভোক্তারা ন্যায্য দামে পণ্য কিনতে না পেরে বাধ্য হচ্ছেন বেশি দামে কিনতে। বর্ষাকালকে কেন্দ্র করে বাজারে কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত মুনাফা ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ নতুন নয়। নিয়মিত বাজার তদারকি, পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে দামের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এবিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ...