পটিয়ায় বাড়ি, ইট যাচ্ছে ঈদগাঁও থেকে—ডাম্প ট্রাক সমিতিকে বিনামূল্যে ইট সরবরাহে বাধ্য করার অভিযোগনির্বাচনের ডিউটি বাণিজ্য—ডিউটি এড়াতে গাড়িপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ
শেফাইল উদ্দিন, কক্সবাজার।
কক্সবাজারের ঈদগাঁও ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট শান্তময় দাসকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অহরহ অভিযোগ স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মুখে মুখে ঘুরছে। এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আলোচনায় এলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে ব্যবসায়ী, চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরে একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার নীরব প্রশ্রয়, দুর্বল তদারকি এবং ঊর্ধ্বতন মহলের আশকারার কারণেই সার্জেন্ট শান্তময় দাস এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তার মন্তব্য—”অভিযোগ উঠতেই পারে, অসুবিধা নেই”—আরও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঈদগাঁও ট্রাফিক বিভাগে যোগ দেন সার্জেন্ট শান্তময় দাস। এরপর প্রায় দুই বছরে তিনি ঈদগাঁও বাসস্টেশনকেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী মাসোহারা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, বনফুল, ফ্রেশ, ইস্পাহানি ও মধুবনের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্যবাহী গাড়ি নিয়মিত আটকিয়ে মামলা ও রেকারের ভয় দেখানো হয়। পরে কথিত রেকার বিলের অজুহাতে গাড়িপ্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আদায় করা হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এভাবে আদায় হওয়া অর্থ আদৌ সরকারি কোষাগারে জমা হয় কি না।অভিযোগ রয়েছে, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচলের নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখিয়ে সিএনজি, মাহিন্দ্রা, অটোরিকশা, নোহা, মাইক্রোবাস ও অন্যান্য পরিবহন সমিতির কাছ থেকেও মাসিক মাসোহারা নেওয়া হয়। ফলে বাসস্টেশনে অবৈধ পার্কিং ও দীর্ঘ যানজট স্থায়ী রূপ নিয়েছে।এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সরকারি ডিউটিতে যানবাহন না পাঠানোর সুযোগ করে দেওয়ার নামে গাড়িপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। এতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মহাসড়কের পাশে মাছ ও মাংস বিক্রেতাদের মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হতো। এমনকি কয়েকজন মাংস ব্যবসায়ীকে নিয়মিত বিনামূল্যে মাংস সরবরাহে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি এসেছে তার ব্যক্তিগত বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে। স্থানীয়দের দাবি, চট্টগ্রামের পটিয়ায় নিজ এলাকায় নির্মাণাধীন দুইতলা বাড়ির জন্য ঈদগাঁওয়ের প্রতিটি ইটভাটা থেকে দুই হাজার করে ইট সরবরাহে ডাম্প ট্রাক সমিতিকে বাধ্য করা হয়েছে। বিষয়টি ঈদগাঁওজুড়ে এখন ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবে আলোচিত হলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ।এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সার্জেন্ট শান্তময় দাস বলেন, “অভিযোগ উঠতেই পারে, অসুবিধা নেই।”ঈদগাঁও ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর মৃদুল কুরী বলেন, “অভিযোগ থাকলে আপনারা সংবাদ প্রকাশ করেন। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি এসবের সঙ্গে জড়িত নই।”এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদার বলেন, “সার্জেন্ট শান্তময় দাসের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ এসেছে। অভিযোগগুলো জেলা ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা মিললে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”পরিবহন ব্যবসায়ী, পণ্য সরবরাহকারী, সিএনজি ও টমটম চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের এই হয়রানিতে তারা অতিষ্ঠ। তারা পুলিশ সুপার কক্সবাজারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছন ।।