সালাউদ্দীন শাহিন,বাঘাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় মারিশ্যা সীমান্তে মাদক-চোরাচালানের বিরুদ্ধে তিনি বজ্রকঠোর। আবার সেই মানুষটিই যখন এলাকার স্কুলে যান, তখন তিনি হয়ে ওঠেন স্নেহময় অভিভাবক।তিনি মারিশ্যা জোন (২৭ বিজিবি) এর জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, পিএসি।সীমান্তে জিরো টলারেন্স তার কঠোর নির্দেশনায় মারিশ্যা সীমান্তে নিয়মিত বিশেষ অভিযান চলছে। সম্প্রতি এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় সিগারেট, মদ ও অবৈধ কাঠ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও অস্ত্র উদ্ধার করে মাদক ও চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছে কঠোর বার্তা। তার এই তৎপরতায় সীমান্ত এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে।মানুষের পাশে ২৭ বিজিবি,শুধু সীমান্ত রক্ষাই নয়, মানুষের কল্যাণেও কাজ করছেন তিনি।জোনের আওতাধীন বিভিন্ন স্কুল ভিজিট করে হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে বই, খাতা, কলম ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ এবং নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করছেন।স্বাস্থ্যসেবা, বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করছেন। প্রতি ক্যাম্পে ২০০-৩০০ জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে।স্বাবলম্বীকরণ, অসহায় নারীদের সেলাই মেশিন এবং গৃহহীনদের ঘর নির্মাণের জন্য টিন ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন।সামাজিক সহায়তা, বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।জোন কমান্ডারের এমন মানবিক কাজে বাঘাইছড়ি ও মারিশ্যার সাধারণ মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন,স্যারকে পেয়ে আমরা ধন্য। উনি শুধু বিজিবির অফিসার না, উনি আমাদের এলাকার অভিভাবক।একজন উপকারভোগী নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আল্লাহ উনার মঙ্গল করুক। উনার দেওয়া সেলাই মেশিন দিয়েই এখন আমার সংসার চলে।তরুণরা বলছে,মাদকের বিরুদ্ধে স্যারের কঠোর অভিযানে আমরা এখন নিরাপদে চলতে পারি। উনি আমাদের চোখের হিরো।এলাকাবাসীর একটাই দাবি এমন মানবিক অফিসার যেন দীর্ঘদিন মারিশ্যা জোনের দায়িত্বে থাকেন।লেঃ কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, পিএসি আবেগী কণ্ঠে বলেন,একজন সৈনিকের কাজ শুধু বন্দুক হাতে সীমান্ত পাহারা দেওয়া নয়। আমার কাছে এই এলাকার প্রতিটি শিশু আমার নিজের সন্তানের মতো, প্রতিটি অসুস্থ মানুষ আমার পরিবারের সদস্যের মতো।তাই যখন দেখি কোনো ছাত্র বইয়ের অভাবে পড়া বন্ধ করে দিচ্ছে, তখন বুকের ভেতর কষ্ট হয়। যখন দেখি কোনো মা-বোন চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পাচ্ছে, তখন চুপ করে থাকতে পারি না।আমরা মাদক আর চোরাচালানের বিরুদ্ধে কঠোর। কারণ এরা আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আবার একই সাথে আমরা চাই আমাদের সন্তানরা শিক্ষার আলোয় বড় হোক, প্রতিটি ঘরে হাসি থাকুক।এটা আমাদের ইউনিফর্মের শপথ। দেশের সেবা করবো, মানুষের সেবা করবো। যতদিন মারিশ্যা জোনের দায়িত্বে আছি, ততদিন এই এলাকার মানুষকে নিজের পরিবার মনে করে পাশে থাকবো।