মানিকগঞ্জ থেকে মোঃ বজলুর রহমানঃ
-মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ছানা তৈরি ও ভেজাল ঘি উৎপাদনের অভিযোগে একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করে বিপুল পরিমাণ অস্বাস্থ্যকর ছানা নষ্ট করা হয়েছে।বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দরগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর শিমুলিয়া গ্রামের গোপাল ঘোষের ছানা তৈরির কারখানায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল অভিযানে নেতৃত্ব দেন।অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় ৭-৮ বছর ধরে স্থানীয় বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে দুধ সংগ্রহ করে নিজ বাড়িতে ছানা তৈরি করে আসছিলেন গোপাল ঘোষ। পরে এসব ছানা ঢাকার বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে সরবরাহ করা হতো।তবে অভিযানে কারখানাটির ভেতরের চিত্র দেখে হতবাক হন কর্মকর্তারা। দুধ প্রক্রিয়াজাত ও ছানা তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছিল নোংরা পানি। ছানা ও দুধ ঠান্ডা করার পানিও ছিল অত্যন্ত অপরিষ্কার। কারখানার পাশেই ছিল টয়লেট ও গোয়ালঘর। একই স্থানে ভেজাল ঘি তৈরিরও প্রমাণ পাওয়া যায়।জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ছানা উৎপাদনের পাশাপাশি ভেজাল ঘি তৈরি করে ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় সরবরাহের বিষয়টি অভিযানে পাওয়া গেছে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় অস্বাস্থ্যকর ছানা নষ্ট করে কারখানাটি সিলগালা এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।তিনি বলেন, কারখানার পরিবেশ সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত না করা পর্যন্ত সেখানে ছানা ও ঘি উৎপাদন বন্ধ থাকবে।অভিযান সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, এর আগেও ২০২১ সালে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে কারখানাটির অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় গোপাল ঘোষকে সতর্ক করার পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু সতর্ক করার পরও একই ধরনের অনিয়ম চলতে থাকায় এবার ফের অভিযান চালানো হয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিবেশে তৈরি ছানা রাজধানীর বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে সরবরাহ করা হচ্ছিল। ফলে বিষয়টি শুধু একটি কারখানার অনিয়ম নয়, এর সঙ্গে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও জড়িত বলে মনে করছেন অনেকে।