মোঃ আলাউদ্দিন, লক্ষ্মীপুর:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের দাসেরহাট বাজারে লাইসেন্সবিহীনভাবে বেকারি পরিচালনা, খাদ্যপণ্যের মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ না করা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির অভিযোগে নিউ তৃপ্তি বেকারিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) দাসেরহাট বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বেকারিটির স্বত্বাধিকারী আলী হোসেন হৃদয়কে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে বেকারিতে পাওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য অনিরাপদ ও মানহীন খাদ্যসামগ্রী জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।জেলা এনএসআই, লক্ষ্মীপুরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত হোসেন। অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক সুমধুর চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় র্যাব-১১, নোয়াখালী, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করেন।অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরিদর্শনের সময় বেকারিটির প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকা, খাদ্য উৎপাদনে অননুমোদিত উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ, খাদ্যপণ্যের মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ না করা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য তৈরির মতো বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া যায়।নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত হোসেন বলেন, “খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতের ক্ষেত্রে আইন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক। ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলে এমন কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক সুমধুর চক্রবর্তী বলেন, “খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপদ খাদ্য আইন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। পরিদর্শনে অনিয়ম ধরা পড়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”অভিযান চলাকালে বেকারিতে থাকা অনিরাপদ খাদ্যসামগ্রী জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি বেকারি কর্তৃপক্ষকে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গ্রহণ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং নিরাপদ খাদ্য সংক্রান্ত সব বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দাসেরহাট বাজারসহ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেকারি ও অন্যান্য খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন। তাদের মতে, শুধু জরিমানা নয়, নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি থাকলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি এবং অনিরাপদ খাদ্য বাজারজাতের প্রবণতা কমানো সম্ভব।ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।