বিশেষ প্রতিনিধি, বরগুনা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, এরপর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ। পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের জন্য পাত্র দেখা শুরু হলে কাউকে না জানিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরের বরগুনার পাথরঘাটায় ছুটে আসে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী। সেখানে তার সঙ্গে দেখা হয় পাথরঘাটার ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের।বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয় কৌতূহল।
খবর পেয়ে পুলিশ দুইজনকে থানায় নিয়ে যায়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে কিশোরীকে তার পরিবারের কাছে এবং কিশোরকে তার পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দঁপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খাঁন।স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আড্ডা ওই কিশোর-কিশোরীর পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলছিল। একপর্যায়ে কিশোরীর পরিবার তার বিয়ের জন্য পাত্র দেখা শুরু করলে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পরিবারের কাউকে না জানিয়ে পাথরঘাটার উদ্দেশে রওনা হয় সে।পরদিন সকালে মঠবাড়িয়ায় পৌঁছালে ওই কিশোর তাকে মোটরসাইকেলে করে পাথরঘাটার বড়ইতলা এলাকায় নিয়ে আসে। সেখানে দুইজনকে একসঙ্গে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কৌতুহল ও আলোচনা শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে।থানায় কিশোরী প্রথমে পুলিশকে জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই কিশোরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছে। তাকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যেই সে গাজীপুর থেকে পাথরঘাটায় এসেছে। এমনকি বিয়ের জন্য ধর্ম পরিবর্তনের ইচ্ছার কথাও জানায় সে।তবে পরে বাবাকে কাছে পেয়ে তার বক্তব্যে পরিবর্তন আসে। কিশোরী তখন বলে, তার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। সে বাবার সঙ্গে বাড়ি ফিরে যেতে চায় এবং ওই কিশোরের সঙ্গে আর সম্পর্ক রাখতে চায় না।কিশোরী বলেন, আমার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। আমি এসএসসি পাশ করেছি। লেখাপড়া করে মানুষ হতে চাই। আমি বাবার সাথে গাজিপুর চলে যাব এবং পড়াশোনা করব।কিশোরীর বাবা আনোয়ার হোসেন শেখ খবর পেয়ে গাজীপুর থেকে পাথরঘাটায় আসেন। তিনি বলেন, মেয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে এত দূরে চলে আসায় তারা হতবাক হয়ে যান। পুলিশের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে যান। পুলিশের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলীম বলেন, একটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে মুসলিম পরিবারের এক কিশোরী এসেছে। এমন খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। পরে দুইজনকে থানায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খাঁন বলেন, ছেলে-মেয়ে দুইজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক। এ ঘটনায় কোনো মামলা বা অভিযোগ হয়নি। আমরা কিশোরীকে অনেক বুঝিয়ে বলার পরে সে তার ভুল বুঝতে পেরেছে। পুলিশ হেফাজতে রেখে তার অভিভাবককে খবর দেওয়া হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুইজনকেই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে পুলিশ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে মানবিক, শান্তিপূর্ণ ও আইনানুগভাবে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিশোর-কিশোরী দুজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতা ও মানবিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করা হয়েছে। স্থানীয় ভাবে যাতে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হয়েছে। পরে কিশোরীর অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাকে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।