স্টাফ রিপোর্টার:
জয়নাল আবেদীন রাজুবরগুনার তালতলী উপজেলায় রাখাইন সম্প্রদায়ের একটি পরিবারের পৈতৃক ও রেকর্ডভুক্ত প্রায় আট একর জমিতে চাষাবাদে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা ওই জমি নিয়ে বিরোধের জেরে জমির মালিক মংখেল্লা তালুকদার ও তার স্ত্রী মাসুইবো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন।অভিযোগকারী মংখেল্লা তালুকদারের দাবি, উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে তাদের পূর্বপুরুষের প্রায় দুইশ বছরের পুরোনো জমি রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা ওই জমি ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছেন। বর্তমানে জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।মংখেল্লা তালুকদার বলেন, “পূর্বপুরুষের সময় থেকে প্রায় দুইশ বছর ধরে আমরা এই জমি ভোগদখল করে আসছি। হঠাৎ করে আমাদের প্রায় আট একর জমিতে চাষাবাদে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি এবং পরিবার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আছি।”তার অভিযোগ, সোলেমান হোসেন সবুজের ভাড়াটিয়া লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমিতে গিয়ে চাষাবাদে বাধা দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তাদের ভয়ভীতি দেখানো ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।মংখেল্লা তালুকদারের স্ত্রী মাসুইবো বলেন, “জমিটি আমাদের। তারা বিভিন্ন লোকজন ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এসে আমাদের কাছে চাঁদা দাবি করে। এ বিষয়ে আমরা আদালতে মামলা করেছি। আদালতের রায়ও আমাদের পক্ষে এবং জমিতে নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে বলে আমরা জানি। এরপরও তারা ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছে। রক্তের শেষ বিন্দু থাকা পর্যন্ত আমরা আমাদের জমি রক্ষার চেষ্টা করব। তবে আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইনগতভাবেই এর সমাধান চাই।”এ বিষয়ে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছেন, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সোলেমান হোসেন সবুজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আদালতের নির্দেশনা ও আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান রেখে তাদের জমিতে নির্বিঘ্নে চাষাবাদের সুযোগ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।