1. admin@bishwamedia.com : Main :
  2. news@bishwamedia.com : Bishwa Media : Bishwa Media
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
তালতলীতে সাড়ে ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠ ঝুপড়িঘরে, পড়ে আছে ৭ কোটি টাকার ভবন সাজেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় ৬ পর্যটক আটক তালতলীতে রাখাইন পরিবারের জমিতে চাষাবাদে বাধা দেওয়ার অভিযোগ চলে গেলেন বেতাগীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজ্বী নূরুল ইসলাম, জানাজায় মানুষের ঢল আলমডাঙ্গায় ১৯ বছরের তরুণী মাদক মামলায় গ্রেপ্তারইয়াবা-গাঁজা, নগদ ৬৩ হাজার টাকা ও ৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার ক্যান্সারে আক্রান্ত অসহায় রৌশন আরার পাশে বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন জামিন না পেয়ে আদালতের এজলাসে আসামির হামলা, আহত ৩ পুলিশ সদস্য ঝালকাঠির উন্নয়ন হতে হবে সমতার ভিত্তিতে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার সাহিত্যিকা উচ্চ বিদ্যালয়েটাইব্রেকারের রোমাঞ্চে নবম শ্রেণিকে হারিয়ে ফাইনালে দশম শ্রেণি বেগমগঞ্জে নিষিদ্ধ পলিথিন কারখানায় অভিযান, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

তালতলীতে সাড়ে ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠ ঝুপড়িঘরে, পড়ে আছে ৭ কোটি টাকার ভবন

  • আপলোডের সময় : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার।

জয়নাল আবেদীন রাজুবরগুনার তালতলী উপজেলার তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে জরাজীর্ণ টিনশেড ও ছোট ছোট অস্থায়ী কক্ষে। অথচ বিদ্যালয়ের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবন। দীর্ঘদিনেও নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় আধুনিক এই ভবনের সুবিধা পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা।ফলে গরম, আলো-বাতাসের সংকট ও শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতার মধ্যেই প্রতিদিন পাঠ নিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও নেই পর্যাপ্ত জায়গা। একটি সংকীর্ণ লাইব্রেরি কক্ষেই কোনোরকমে বসে দাপ্তরিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে তাদের।বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন এবং কর্মচারী তিনজন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়েছে।এই সংকট দূর করতে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচতলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ফেলে রাখে বলে অভিযোগ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনটি এখনো শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের উপযোগী করে হস্তান্তর করা হয়নি।সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পুরনো টিনশেড ও ছোট ছোট কক্ষেই চলছে শ্রেণি কার্যক্রম। শিক্ষার্থীর তুলনায় কক্ষগুলোর আয়তন অপ্রতুল হওয়ায় অনেকটা গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে তাদের। গরমের সময় পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে। কোথাও নেই পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, কোথাও আবার বিদ্যুৎ সুবিধাও নেই।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের বলেন, সরকারি অর্থায়নে পাঁচতলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হলেও এখনো ভবনটি পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী হয়নি। এ কারণে বাধ্য হয়ে পুরনো টিনশেড কক্ষেই শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে।তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে অনেক সময় একই কক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান করতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও পর্যাপ্ত কক্ষ নেই। বর্তমানে ১০ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারীকে একটি ছোট লাইব্রেরি কক্ষে বসতে হচ্ছে।বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া জানায়, টিনশেড কক্ষে বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের সময় ক্লাস করা খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস না থাকায় অনেক সময় পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে যায়।ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সজীব জানায়, বিদ্যালয়ে ব্যবহার উপযোগী ও পরিচ্ছন্ন ওয়াশরুমেরও সংকট রয়েছে। প্রয়োজনের সময় দূরের বাসাবাড়িতে যেতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে ছাত্রীদের ভোগান্তি বেশি হয়।শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ছোট কক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস করায় প্রচণ্ড গরমে অনেক সময় অসুস্থ বোধ করে তারা। বিদ্যুৎ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকলে স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা করা সম্ভব হতো।বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে বিপুল অর্থ ব্যয়ে ভবন নির্মাণ করা হলেও সেটি দীর্ঘদিনেও ব্যবহার উপযোগী না হওয়ায় সরকারি অর্থের কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। ভবনটি দ্রুত সম্পন্ন করে হস্তান্তর করা গেলে দীর্ঘদিনের শ্রেণিকক্ষ সংকট অনেকটাই দূর হবে বলে মনে করছেন তারা।প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের জানান, ভবন নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালীর বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর বিশ্বাস। ভবনটির কাজ অসম্পূর্ণ থাকার বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. টিপু সুলতান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময় ও সিডিউল অনুযায়ী ভবনের কাজ শেষ করে হস্তান্তর না করায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হচ্ছে।অভিভাবকরাও দ্রুত ভবনটির কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ করা হলেও সেটি বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকা দুঃখজনক। দ্রুত কাজ শেষ করে ভবনটি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া প্রয়োজন।শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি, অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করে পাঁচতলা ভবনটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের পাশাপাশি বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি ও ব্যবহার উপযোগী ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা হোক। এতে সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের শ্রেণিকক্ষ সংকটের অবসান ঘটবে এবং তারা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।

এই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ...