নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, মো: মাসুদ ইসলাম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মাকে হারিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০ মাস বয়সী এক শিশু। দুর্ঘটনায় শিশুটির মা ফাতেমা আক্তার নিহত হলেও প্রাণে বেঁচে যায় অবুঝ শিশুটি। তবে দুর্ঘটনার পর থেকে এখনো শিশুটির স্বজনদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বজনদের অপেক্ষায় দিন কাটছে শিশুটির।পুলিশের শনাক্ত করা তথ্য অনুযায়ী, নিহত ফাতেমা আক্তারের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের শিবাশ্রম গ্রামে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে নেত্রকোনাগামী শাপলা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় পৌঁছালে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে বাসটি মহাসড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়। এ সময় বাসের কয়েকজন যাত্রী নেমে সড়কের পাশে অপেক্ষা করছিলেন।এমন সময় দ্রুতগতির একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের চাপা দেয়। এতে নারী ও শিশুসহ পাঁচজন নিহত হন এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলজুড়ে সৃষ্টি হয় শোকাবহ পরিস্থিতি।মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ফাতেমা আক্তার। তবে তাঁর ১০ মাস বয়সী শিশুটি আহত অবস্থায় বেঁচে যায়। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।বর্তমানে হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে শিশুটির চিকিৎসা চলছে। স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব না হওয়ায় হাসপাতালের নার্স ও সেবাকর্মীরা শিশুটির দেখাশোনা করছেন বলে জানা গেছে।স্বজনদের সন্ধান চায় হাসপাতালমায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত এই অবুঝ শিশুটির পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। শিশুটির স্বজনদের সন্ধান পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের শিবাশ্রম গ্রামের বাসিন্দা কিংবা নিহত ফাতেমা আক্তারের আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত কেউ এ সংবাদ দেখে থাকলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অথবা হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে শিশুটির মাকে, আর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে তার পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার পথ। তাই শিশুটির স্বজনদের দ্রুত খুঁজে বের করতে সংবাদটি ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।শিশুটির স্বজনদের সন্ধান পেতে সংবাদটি শেয়ার করে সহযোগিতা করুন।