স্বপন কুমার ঢালী, বেতাগী :
কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশার দাপটে টানা তিনদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। অবশেষে আজ মঙ্গলবার বিকেলে উপকূলের আকাশের মেঘ ও কুয়াশা কাটিয়ে সূর্যের মুখ দেখা গেছে। এতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে শীতে জবথবু বেতাগীর মানুষের।
গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে বা এর কাছাকাছি নেমে যাওয়ায় শীতের প্রকোপ ছিল তীব্র। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো দেখা যায়নি। হাড় কাঁপানো শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষ, বৃদ্ধ ও শিশুরা। অনেকেই প্রয়োজনীয় কাজ বাদ দিয়ে ঘরে অবস্থান করেন। শীত নিবারণের জন্য বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালিয়ে মানুষকে গা গরম করতে দেখা গেছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেলের দিকে কুয়াশা ধীরে ধীরে কেটে গেলে সূর্যের দেখা মেলে। সূর্যের উষ্ণতায় কিছুটা হলেও তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। এতে বাইরে বের হওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ে। বিকেলের দিকে বাজার, সড়ক ও জনবহুল এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় মানুষের চলাচল লক্ষ্য করা গেছে।
বেতাগী পৌর শহরের সত্তর বছর বয়সী মো: মজিবুর রহমান বলেন, ‘টানা কয়েকদিন সূর্যের দেখা না পাওয়ায় শীত অসহনীয় হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে সকালে কাজে বের হতে খুব কষ্ট হতো। সূর্যের আলো দেখা যাওয়ায় শরীরে কিছুটা আরাম লাগছে। সূর্য অস্ত গেলে রাত ও ভোরে শীতের তীব্রতা এখনও রয়ে গেছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আপাতত শীতের এই পরিস্থিতি আরও কিছুদিন থাকতে পারে। দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিললেও রাতের তাপমাত্রা কম থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সবাইকে শীতজনিত রোগ থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের উষ্ণ কাপড় পরানো, গরম খাবার গ্রহণ এবং প্রয়োজন ছাড়া ভোরে বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।