বিশেষ প্রতিবেদক,বরগুনা
একমাত্র ছেলে নেশার টাকা না পেয়ে জম্মদাতা বাবাকে মারধর করে একাধিকবার হত্যার চেস্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন অভিযোগে বাবা মো: মুজিবর রহমান বুধবার বরগুনার অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ম্যাজিস্ট্রেট মো: মনিরুজ্জামান মামলাটি গ্রহন করে বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এজাহার ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আসামী হলো বরগুনা কলেজ ব্রাঞ্চ সড়কের বাসিন্দা মোঃ মজিবর রহমানের ছেলে মোঃ মিরাজুল ইসলাম (৩৮)। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পেশকার নাদিরা পারভিন।
জানা যায়, আসামীর বাবা অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মজিবর রহমান(৭০) জমি বিক্রি ও পেনশনের টাকা দিয়ে এক মাত্র ছেলে মিরাজুলকে ৬ বার সিঙ্গাপুর পাঠায়। কিছুদিন থাকার পরে বার বার দেশে ফিরে আসে। বাবা ছেলেকে ভালো করার জন্য বিয়ে করায়। মাদকের নেশার কারনে মিরাজুলের বউ তালাক দিয়ে চলে গেছে। বাবার শহরে বাসা ছাড়া আর কিছু নেই। ছেলে নেশার জন্য বাবার কাছে বার বার টাকা চায়। টাকা না দিলে বার বার বাবাকে মারধর করে। বাবা প্রানের ভয়ে মেয়ের বাড়ি কখনো চাচাত ভাইর বাড়ি থাকে। ছেলের মারধর সইতে না পেরে মসজিদে রাত যাপন করে বাবা। গত বছরের ১৩ ও ১৭ জুন দুইবার বাবাকে মেরে মারাত্মক জখম করে ছেলে। চলতি মাসের ৫ জানুয়ারি রাত অনুমান ১১ টার সময় ছেলে মিরাজুল বাসায় ঢুকে বাবার কাছে ৫ হাজার টাকা চায়। ৭০ বছরের বৃদ্ধ বাবা কোনো কথা না বলায় তার রুমে গিয়ে মারধর শুরু করে। বাবা চিৎকার দিলে কম্বল ও বালিশ চাপা দিয়ে বাবাকে হত্যার চেস্টা করে। ছেলের হাত থেকে কোনো রকম রক্ষা পেয়ে ওই রাতে জনৈক মোস্তফার বাসায় আশ্রায় নেয় বাবা। পরের দিন বরগুনা হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়।
বাবা মো: মজিবর রহমান বলেন, আমার সব কিছু ছেলের পিছনে ব্যয় করেছি। দুটি মেয়েকে বঞ্চিত করেছি। স্ত্রী স্ট্রোক করে বাসায় পরে আছে। তার চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমার ছেলে মাদকের নেশার টাকা পেলে আমাকে বার বার মারধর করে। এখন হত্যা করে বাসা বিক্রি করবে। ৬ বার ছেলেকে সিঙ্গাপুর পাঠিয়ে ২০ লাখ টাকা খরচ করে নিস্ব হয়েছি। আমার ছেলে মিরাজুল যে কোনো সময় আমাকে হত্যা করতে পারে।
ছেলে মিরাজুল ইসলামকে একাধিক বার ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেন না।
বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল আলীম বলেন, আমি এখন পর্যন্ত মামলা পাইনি। আদালতের আদেশ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করব।