কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি নূরে আলম ( শাহারিয়ার )
কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা হাজী জসিম উদ্দিন জসিম এক ব্যতিক্রমী নজির স্থাপন করলেন। গত রাতে সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক চোরাচালান রোধে সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে সরাসরি অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।ঘটনার বিবরণগতকাল গভীর রাতে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবাড়ি সীমান্ত এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এই রুটটি মাদক চোরাচালানের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত তৎপরতার পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমপি নিজেই মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেন।অভিযানকালে তিনি সাধারণ পোশাক পরিহিত অবস্থায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও দলীয় কর্মীদের সাথে নিয়ে মাদক পাচারের সম্ভাব্য পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নেন।অভিযানের মূল দিকসমূহ: * ছদ্মবেশ ধারণ: পরিচয় গোপন রেখে গভীর রাত পর্যন্ত সীমান্ত সংলগ্ন ঝোপঝাড় ও মেঠোপথে টহল। * জনসম্পৃক্ততা: স্থানীয় যুবসমাজকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন করতে এবং তথ্য দিয়ে সহায়তার আহ্বান। * কঠোর হুঁশিয়ারি: অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় তিনি মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন।> “মাদকের মরণছোবল থেকে আমার নির্বাচনী এলাকার তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না, সে যে দলেরই হোক না কেন।”> — হাজী জসিম উদ্দিন জসিম, এমপি (কুমিল্লা-৫)> এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়াএকজন সংসদ সদস্য নিজে সরাসরি সীমান্তে উপস্থিত হয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, জনপ্রতিনিধিরা এভাবে সক্রিয় থাকলে মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটতে বাধ্য হবে।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাএমপি জসিম উদ্দিন জানান, এটি কোনো একদিনের লোক দেখানো অভিযান নয়। বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়াকে শতভাগ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের আকস্মিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন এবং সাধারণ মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।