শেফাইল উদ্দিন ,কক্সবাজার
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপজেলার ১৪টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩১৫ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেছে।শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঈদগাহ রশিদ আহমদ কলেজ ক্যাম্পাসে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়।আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য মোট ৩২৮ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। এর মধ্যে ১৮১ জন ছাত্র ও ১৪৭ জন ছাত্রী। পরীক্ষায় ১৩ জন অনুপস্থিত থাকায় অংশ নেয় ৩১৫ জন। কলেজের অনার্স ভবন ও আইসিটি ভবনের আটটি কক্ষে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দায়িত্ব পালন করেন ২১ জন কক্ষ পরিদর্শক।পরীক্ষার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন কক্সবাজারের দুজন অধ্যাপক। তবে তাঁদের নাম প্রকাশ করেনি আয়োজক কর্তৃপক্ষ।পরীক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদার, ঈদগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ আবু সিদ্দিক, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রূপস পাল, পোকখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক জিয়াউল করিম, শিক্ষক আব্দুল হামিদ, ঈদগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক শেফাইল উদ্দিন, মনির আহমদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।পরীক্ষা পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করেন নুর মোস্তফা কামাল সাদেক, এম. জয়নাল আবেদীন, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. শাহজাহান, বদিউল আলমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন ঈদগাঁও উপজেলা শাখার উপদেষ্টা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশ, পড়াশোনায় আগ্রহ বৃদ্ধি এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেই প্রথমবারের মতো এ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।উপজেলা শাখার সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর বাঙালি জানান, পরীক্ষা পরিচালনা, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, পর্যবেক্ষণ ও সার্বিক তদারকির জন্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সমন্বয়ে বিভিন্ন কমিটি ও উপকমিটি গঠন করা হয়।সংগঠনের সদস্য সচিব মিসবাহুর রহমান বলেন, এ ধরনের মেধাবৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি করবে এবং ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল অর্জনে উৎসাহ জোগাবে। একই সঙ্গে কিন্ডারগার্টেন পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি ও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে।উল্লেখ্য, ঈদগাঁও উপজেলায় প্রথমবারের মতো এ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা আয়োজনকে ঘিরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।