1. admin@bishwamedia.com : Main :
  2. news@bishwamedia.com : Bishwa Media : Bishwa Media
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বেতাগীতে জাতীয় যুব দিবস পালিত, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকদের হাতে সনদ বিতরণ বেতাগীতে এইচএসসি ফলাফলে উদ্বেগ, অকৃতকার্য ৬৫ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে “তাসনিহা তাসনিন কথা “ ঈদগাঁওয়ে প্রথমবার কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত কাঠালিয়ায় শিশু কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা,মাদক ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ সেমিনার অনুষ্ঠিত বেতাগীতে নয়া দিগন্তের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় মাকে হারাল ১০ মাসের শিশু, চমেক হাসপাতালে স্বজনদের অপেক্ষায় হাজীগঞ্জে বাকিলা ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনে ৫ নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী মোঃ ইব্রাহিমের জনসংযোগ ও প্রার্থিতা ঘোষণা বন্দরে নানা আয়োজনে বিশ্ব হাত ধোঁয়া দিবস পালিত ঈদগাঁওতে ব্যবসায়ী সুজয়ের উপর হামলা -৫০ হাজার টাকা ছিনতাই মোটরসাইকেল ভাঙচুর, থানায় লিখিত অভিযোগ

বেতাগীতে এইচএসসি ফলাফলে উদ্বেগ, অকৃতকার্য ৬৫ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী

  • আপলোডের সময় : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬

লিটন কুমার ঢালী, বেতাগী (বরগুনা) :

দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা বরগুনার বেতাগী উপজেলায় ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। উপজেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাপ্ত বিভাগভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর তুলনায় অনুত্তীর্ণের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। বিশেষ করে বেতাগী সরকারি কলেজ ও চান্দখালী মোশাররফ হোসেন কলেজে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। সামগ্রিক ফলাফলে পাসের হার কম হওয়ায় স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উল্লেখিত বিভাগগুলোতে মোট ১ হাজার ৫০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৬৪ জন। অন্যদিকে, অনুত্তীর্ণ হয়েছেন ৬৮৬ জন। সে হিসাবে পাসের হার প্রায় ৩৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ফেল করার হার প্রায় ৬৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ।বেতাগী সরকারি কলেজে ফেল ৪০৬ জনউপজেলার অন্যতম প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেতাগী সরকারি কলেজের ফলাফলে দেখা গেছে, তিন বিভাগে মোট ৬৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২৪৬ জন। বিপরীতে ফেল করেছেন ৪০৬ জন।বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে ৫৮ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হলেও অনুত্তীর্ণ হয়েছেন ১০২ জন। মানবিক বিভাগে পাস করেছেন ১৫৭ জন, আর ফেল করেছেন ২৫৭ জন। এ ছাড়া ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩১ জন উত্তীর্ণ এবং ৪৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছেন।তিনটি বিভাগের ফলাফল একত্রে বিবেচনা করলে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা উত্তীর্ণদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশেষ করে মানবিক বিভাগে অনুত্তীর্ণের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা সংশ্লিষ্ট বিভাগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও পাঠদান কার্যক্রম পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।চান্দখালী মোশাররফ হোসেন কলেজের ফলও হতাশাজনক:চান্দখালী মোশাররফ হোসেন কলেজেও আশানুরূপ ফল দেখা যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির তিন বিভাগে মোট ৩০৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৯৭ জন। অন্যদিকে, ফেল করেছেন ২০৮ জন।বিভাগভিত্তিক হিসাবে বিজ্ঞান বিভাগে ২২ জন উত্তীর্ণ এবং ৩৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছেন। মানবিক বিভাগে ৬১ জন পাসের বিপরীতে ফেল করেছেন ১৫১ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৪ জন উত্তীর্ণ হলেও অনুত্তীর্ণ হয়েছেন ২১ জন।এ প্রতিষ্ঠানের ফলাফলেও মানবিক বিভাগে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তিন বিভাগ মিলিয়ে অনুত্তীর্ণের সংখ্যা দুই শতাধিক হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ, নিয়মিত পাঠদান ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।বিবিচিনি কলেজেও পাসের হার কম:বিবিচিনি কলেজের ফলাফলও উদ্বেগজনক। প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মোট ৬৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ১৪ জন। বিপরীতে অনুত্তীর্ণ হয়েছেন ৫৩ জন।বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে ৪ জন পাস করেছেন এবং ফেল করেছেন ৬ জন। মানবিক বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৯ জন, আর অনুত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৫ জন। অন্যদিকে, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১ জন পাস করেছেন এবং ২ জন ফেল করেছেন।বিশেষ করে মানবিক বিভাগে উত্তীর্ণের তুলনায় অনুত্তীর্ণের সংখ্যা অনেক বেশি। সামগ্রিক ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের সাফল্যের হার বাড়াতে বিভাগভিত্তিক দুর্বলতা চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগেও পিছিয়ে:উপজেলার বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগের ফলাফলও সন্তোষজনক নয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ বিভাগে ৭ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। অন্যদিকে, অনুত্তীর্ণ হয়েছেন ১৯ জন। এ ফলাফলও সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার মান ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে পর্যালোচনার দাবি রাখে।শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন, প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগচারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ বিভাগেই উত্তীর্ণের তুলনায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। বিশেষ করে মানবিক বিভাগে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল তুলনামূলকভাবে দুর্বল। তবে শুধু পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার মান অবনতির নির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করা সম্ভব নয়।শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান, শিক্ষকদের দায়িত্ব পালন, বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক তদারকিসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির সুযোগও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল পর্যালোচনা করে দুর্বল বিভাগ ও বিষয়গুলো চিহ্নিত করা জরুরি। নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা, ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব।শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলাফল প্রকাশের পর শুধু পাস-ফেলের হিসাব নিয়ে আলোচনা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়ার কারণ অনুসন্ধান ও তা সমাধানে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করাই এখন সময়ের দাবি।

এই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ...